ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে জ্বালানি পণ্যের বাজারে। এর ধকল সামলাতে পারছে না নাইজেরিয়ান এয়ারলাইনস। সংস্থাটি বলছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ হামলা ও এর জেরে মস্কোর ওপর একের পর এক পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে জেট ফুয়েলের দাম অনেক বেড়ে গেছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর আগে ১৯০ নাইরা (নাইজেরীয় মুদ্রা) বা ৪৫ সেন্টে প্রতি লিটার জেট ফুয়েল পাওয়া যেত। বর্তমানে জ্বালানি পণ্যটির দাম লিটারপ্রতি ৭০০ নাইরা বা প্রায় ১ ডলার ৭০ সেন্টে উঠেছে।

বিবৃতিতে নাইজেরিয়ান এয়ারলাইনস বলেছে, জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে এখন ১ ঘণ্টার দূরত্বের যাত্রায় একজন যাত্রীকে ১ লাখ ২০ হাজার নাইরা বা প্রায় ২৮৯ ডলার ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এত বেশি ভাড়ায় যাত্রী পরিষেবা দেওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। স্বল্পমেয়াদে বিশ্বের সব বিমান সংস্থাকেই জ্বালানির এমন বাড়তি দামের অভিঘাত মোকাবিলা করতে হবে।

নাইজেরিয়ার বিমান চলাচলবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংস্থাটিকে উড়োজাহাজ চলাচল সাময়িক বন্ধের এই সিদ্ধান্ত বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে যেসব যাত্রী আগাম টিকিট কেটে রেখেছেন, তাঁরা এমন সিদ্ধান্তের পর দেশটির ভোক্তা অধিকার সংস্থায় অভিযোগ জানাতে শুরু করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এয়ারলাইনসটির এমন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন অনেকে।

উল্লেখ্য, নাইজেরিয়া জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ দেশ। প্রতিদিন দেশটির খনিগুলো থেকে প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করা হয়। তবে এর সামান্যই দেশটিতে পরিশোধন করা হয়। উত্তোলনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও নাইজেরিয়ার জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাত মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশটিকে।

আফ্রিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন