বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আল–জাজিরার কাছে বিস্ফোরণকালের পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে ওমর ফোফানা নামের এক সাংবাদিক জানান, ঘটনার সময় রাস্তায় অনেক যানজট ছিল। যাঁরা মারা গেছেন কিংবা দগ্ধ হয়েছেন, তাঁদের অনেকেই গাড়ির ভেতরেই পুড়ে গেছেন। তিনি আরও জানান, আহত ব্যক্তিদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সবকিছু সাধ্যমতো সরবরাহের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ফ্রি টাউনের মেয়র ইয়েভননে হাকি সাভায়ের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, ট্যাংকারটি ফেটে গিয়ে তেল চুইয়ে পড়ছিল। কিছুসংখ্যক মানুষ সে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে হতাহত হয়েছেন।

ট্যাংকার বিস্ফোরণের অনেকগুলো ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা গেছে, মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়া কয়েকজনের মরদেহ রাস্তার ওপর শুইয়ে রাখা হয়েছে। আশপাশের দোকান ও বাড়িতে আগুন জ্বলছে। তবে ছবিগুলোর সত্যতা যাচাই করা যায়নি বলে জানিয়েছে আল–জাজিরা।

ফ্রি টাউনের মেয়র ইয়েভননে হাকি সাভায়ের জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিও ও ছবি ঘোরাফেরা করছে, তা খুব মর্মান্তিক। তিনি আরও জানান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করতে পুলিশ ও উপমেয়র ঘটনাস্থলে রয়েছেন।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান ব্রিমা বুরেহ সেসাই অনলাইনে ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি জানান, অনেকগুলো দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একে ‘ভয়াবহ দুর্ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সিয়েরা লিওনের প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস মডা বিও জাতিসংঘ আয়োজিত জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেওয়ায় স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে আছেন। টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে ট্যাংকার বিস্ফোরণে অনেক প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস।

ফ্রি টাউন শহরে ১০ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি গুরুতর ঘটনার সাক্ষী হয়েছে এ শহর। গত মার্চে শহরের একটি বস্তিতে আগুন লেগে ৮০ জনের বেশি আহত হন, বাস্তুচ্যুত হন ৫ হাজারের বেশি। ২০১৭ সালে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট ভূমিধসে এক হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান আর ঘরহারা হন প্রায় তিন হাজার।

আফ্রিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন