default-image

তিউনিসিয়ায় সহিংস বিক্ষোভের জেরে ছয় শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। আজ মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

তিউনিসিয়ায় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের দশম বর্ষপূর্তিতে দেশটিতে দিন কয়েক আগে বিক্ষোভ দেখা দেয়। এই বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, তিউনিসিয়ায় গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া সহিংস বিক্ষোভের জেরে পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছে, তাদের অধিকাংশেরই বয়স ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। মূলত, ভাঙচুর ও লুটতরাজের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চলমান বিক্ষোভে তিউনিসিয়ার কর্তৃপক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। একই সঙ্গে তারা গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অধিকার সমুন্নত রাখতে দেশটির সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গতকাল বিশেষ করে তরুণ বিক্ষোভকারীরা ফের রাজধানী তিউনিসের কেন্দ্রস্থলে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখায়। তারা একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ করে পাথর ও পেট্রলবোমা ছুড়ে মারে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পাল্টা জবাব দেয়। তারা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ওয়াটার ক্যানন ছুড়ে মারে।

রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন শহরেও গতকাল বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

চলমান বিক্ষোভ-সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ বেশ কিছু বিক্ষোভকারীর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তিউনিসিয়া চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটির তরুণদের এক-তৃতীয়াংশ বেকার। করোনার কারণে দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটেছে।

তিউনিসিয়ায় ২০১১ সালে গণতান্ত্রিক বিপ্লব সংগঠিত হয়েছিল। সেই বিপ্লবে দেশটির তৎকালীন স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট জয়নুল আবেদিন বেন আলীর পতন হয়। তিউনিসিয়া থেকে বিপ্লব ছড়িয়ে পড়ে আরব বিশ্বে। আরব বসন্তে কয়েকটি দেশে স্বৈরশাসকের মসনদ উল্টে যায়।

তিউনিসিয়ায় সংগঠিত বিপ্লব অর্থনীতি, কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনবে বলে আশা করেছিল দেশটির তরুণ প্রজন্ম। কিন্তু বিপ্লবের ১০ বছরেও তাদের চাওয়া পূর্ণ হয়নি। তাই অনেকটা হতাশ হয়ে দেশটির তরুণেরা রাস্তায় নেমেছে।

আফ্রিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন