বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উগান্ডার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ডেনিস মুগিম্বা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশটির প্রায় দেড় কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছিল। এমনকি দীর্ঘদিন পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার কারণে অনেকেই ঝরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেছে ইউনিসেফ।

ঝরে পড়া এসব শিক্ষার্থীর একজন ফ্রিদা নামুগানজা। ১৮ বছর বয়সী এই স্কুলছাত্রী উগান্ডার একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করেন। করোনা মহামারি শুরুর পরে ফ্রিদা সেখানে খাবার পরিবেশনকারীর কাজ নেন। কাজ অনুযায়ী মোটামুটি ভালোই বেতন পান তিনি। কিন্তু এতে সন্তুষ্ট নন ফ্রিদা। তিনি স্কুলের পোশাক পরে বন্ধু রাচেল নালওয়াঙ্গার মতো ক্লাসে ফিরতে চান।

এমন গল্প উগান্ডার লাখ লাখ শিশুর, যাদের মধ্যে অনেকেই করোনার কারণে প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পরে সোমবার আবার ক্লাসে ফিরেছে। অনেকে আবার পড়াশোনা আর শুরু করতেই পারেনি।

স্কুলে ফিরতে পারায় আনন্দিত ১৬ বছর বয়সী রাচেল। সে বলেছে, ‘স্কুলে ফিরতে পারায় আমি খুবই রোমাঞ্চিত। এত দিন ধরে বাড়িতে নিরাপদে থাকা আমার পক্ষে সহজ ছিল না। তারপরও আমি সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানাই, যিনি আমাকে নিরাপদ রেখেছেন। আমি সব সময় স্কুলে ফিরে যেতে চেয়েছিলাম।’

তবে উগান্ডা কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, মহামারি শুরু হওয়ার সময় এক-তৃতীয়াংশ শিশু আর স্কুলে ফিরে আসবে না। দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী জনসংখ্যা এবং উচ্চ বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ও করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে উগান্ডায় মৃত্যুর সংখ্যা কম। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে প্রায় ১ লাখ ৫৩ হাজার রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ৩০০ জনের।

এদিকে জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ বলছে, উগান্ডার তরুণদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা অনেক দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল ছিল। ইউনিসেফের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ মুনির সাফিনদিন বলেন, করোনার কারণে লাখ লাখ শিশু শিক্ষার অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি উগান্ডা সরকারের একটি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বলেন, দেশটির এক-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী কখনোই স্কুলে ফিরে আসবে না।

আফ্রিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন