default-image

তিনি ছিলেন মালাবির প্রেসিডেন্টের দেহরক্ষী। নাম তাঁর নরম্যান চিসালে। প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা রক্ষার সঙ্গে সঙ্গে সম্পদ বাড়ানোর দিকেও ভালোই নজর দিয়েছিলেন নরম্যান। সম্প্রতি মালাবিতে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে জানা গেছে, নরম্যানের আছে ৮০টি গাড়ি ও ডজনের বেশি বাড়ি।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, আফ্রিকার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি দেশ মালাবি। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট পিটার মুথারিকার দেহরক্ষী ছিলেন নরম্যান চিসালে। সম্প্রতি নরম্যানের বিরুদ্ধে মালাবির দুর্নীতিবিরোধী কর্তৃপক্ষ তদন্ত চালায়। তাতে দেখা গেছে, নরম্যানের আছে ৮০টির বেশি গাড়ি। এর মধ্যে মার্সিডিজ বেঞ্জ, রেঞ্জ রোভার, ল্যান্ড ক্রুজারসহ বিভিন্ন বিলাসবহুল গাড়িও আছে। আরও আছে ২১টি স্থাবর সম্পত্তি। এর মধ্যে আছে বাসভবন ও বাণিজ্যিক ভবন।

নরম্যান চিসালের নামে থাকা দুটি ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে। ওই দুটি ব্যাংক হিসাবে পাওয়া গেছে প্রায় দেড় লাখ ডলার। চিসালের ঘনিষ্ঠ স্বজন ও সহযোগীদের সম্পদও জব্দ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২২ লাখ ডলার মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, নরম্যান শুধু সাবেক প্রেসিডেন্টের দেহরক্ষীই ছিলেন না, ছিলেন দেশের অন্যতম ধনী ব্যক্তিও।

বিজ্ঞাপন

আল–জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী নরম্যান চিসালে কয়েক মিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, সিমেন্ট আমদানির জন্য ২০১৭-১৮ সালে করা এক ব্যবসায়িক চুক্তিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট পিটার মুথারিকার কর রেয়াতের সুবিধা অবৈধভাবে ব্যবহার করেছিলেন নরম্যান।

সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করার মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন চিসালে। ২০০৯ সালের পর তিনি দেশের প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত হন। গত বছরের জুন পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্টের দেহরক্ষীর দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময়ে মাসে তাঁর বেতন ছিল দেড় হাজার ডলার।

মালাবির দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা বলেছে, নরম্যান যে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ-সম্পদ আয় করেছেন, তা ভাবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

অবশ্য চিসালের আইনজীবী চ্যান্সি গন্ডে বলেছেন, সম্পদ জব্দের বিরুদ্ধে তাঁর মক্কেল আজ বৃহস্পতিবার দেশটির উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। অন্যদিকে মালাবির সাবেক প্রেসিডেন্ট পিটার মুথারিকা দেহরক্ষীর এভাবে সম্পদ আহরণের ঘটনায় নিজের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন।

এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্টের দেহরক্ষীর এত সম্পদের খবর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর মালাবির জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দেশটির তরুণ সম্প্রদায় এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

আফ্রিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন