নিরাপত্তার কারণে নাইজেরিয়ার ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছয় সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিরোধী দলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়া প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথনের ক্ষমতাসীন দল পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) বেশ সুবিধা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বিরোধী দল অল প্রগ্রেসিভ কংগ্রেস (এপিসি)।
গত শনিবার রাতে নির্বাচন পেছানোর ঘোষণা দেন নাইজেরিয়ার নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান আতহিরু জেগা। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী নতুন নির্বাচনের তারিখ ২৮ মার্চ। আর দেশটির গভর্নর ও বিভিন্ন রাজ্যের আইন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১১ এপ্রিল।
নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান জেগা বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর পরামর্শে তিনি ছয় সপ্তাহ নির্বাচন পেছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চরমপন্থী ইসলামি সংগঠন বোকো হারামের সঙ্গে চলমান লড়াইয়ের কারণে এ মুহূর্তে নির্বাচনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয় বলে নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়ে দিয়েছিল। বোকো হারাম অধিকৃত এলাকা উদ্ধার করতে আরও সময় প্রয়োজন বলে জানান নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান।
প্রেসিডেন্ট গুডলাক জোনাথন সাবেক সামরিক শাসক মুহাম্মাদু বুহারির নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল এপিসির সঙ্গে শক্ত লড়াইয়ের মুখে পড়বেন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় জোনাথনের দল পিডিপি প্রচারণার জন্য আরও সময় পাবে। এতে তাদের সুবিধাই হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ বিরোধী দল এপিসির জাতীয় চেয়ারম্যান জন ওদিগি ওয়েগান একে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, নাইজেরিয়ার গণতন্ত্রের জন্য এটি একটি বড় আঘাত। তবে তিনি শান্ত থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানান।
নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার খবরে ‘গভীর হতাশা’ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করতে নিরাপত্তার অজুহাত দেওয়ায়’ নাইজেরীয় সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।

বিজ্ঞাপন
আফ্রিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন