মইসি হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য জানাল পুলিশ

হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইসি।
ছবি: রয়টার্স

হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইসি হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। মইসিকে হত্যার ঘটনায় কলম্বিয়ার যেসব ভাড়াটে খুনিকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তাদের কয়েকজনের সঙ্গে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের সাবেক এক বিচারপতি সাক্ষাৎ করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর রয়টার্সের।

গতকাল শুক্রবার পুলিশ বলেছে, সুপ্রিম কোর্টের ওই নারী বিচারপতির নাম উইনডেনলে কক-থেলট। তাঁকে সন্দেহভাজন অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

মইসি ক্ষমতায় আসার পর অভ্যুত্থানের পরিকল্পনার অভিযোগে যে তিন বিচারপতিকে বরখাস্ত করা হয়েছিল, তাঁদের একজন থেলট। গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর মইসি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

মইসি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ভাড়াটে খুনি ও এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন দেশে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শীর্ষ এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে সাবেক বিচারপতি থেলটের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও তিনি কোথায় আছেন, তা এখনো জানা যায়নি। এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এ বিষয়ে তাঁর মন্তব্যও জানা যায়নি।

হাইতি ন্যাশনাল পুলিশের মুখপাত্র ইন্সপেক্টর জেনারেল মেরি মিশেল ভেরিয়ার বলেন, মইসি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে যেসব ভাড়াটে খুনি ও হাইতি বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরা বলেছেন, থেলটের সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন থেলটের বাসায় গিয়েছিলেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই সাক্ষাৎকালে কিছু নথিতে সাক্ষর করা হয়েছে। সন্দেহভাজন ওই খুনিরা সেই নথি পুলিশকে দিয়েছে।

এদিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর থেলটের কয়েকটি বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তাঁর নামে ওয়ান্টেড পোস্টারও টাঙানো হয়েছে।

৭ জুলাই প্রেসিডেন্ট মইসিকে হত্যা করা হয়। তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছিল।

এই হামলায় তাঁর স্ত্রী মার্টিন মইসিও আহত হন। পরে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। ৫৩ বছর বয়সী জোভেনেল মইসি ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে উঠেছিল। দেশটিতে সহিংস সরকারবিরোধী বিক্ষোভও হয়েছিল।