default-image

আফ্রিকার দেশ মালিতে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাহ এনদাউ। পাঁচ সপ্তাহ আগে এক সামরিক অভ্যুত্থানে প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম বুবাকার কেইতাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়েছিল। বাহ এনদাউ এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাহ এনদাউকে বাছাই করেছেন দেশটির সাম্প্রতিক সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা কর্নেল আসিমি গোইতা। বলা হচ্ছে, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে থাকবেন ৭০ বছর বয়সী বাহ এনদাউ। কর্নেল গোইতা ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন বলে জানা গেছে।

বিবিসি বলছে, নিষেধাজ্ঞার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই বাহ এনদাউয়ের মতো বেসামরিক নেতাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কারণ পশ্চিম আফ্রিকার আঞ্চলিক গোষ্ঠী একোয়াস জানিয়ে দিয়েছিল যে প্রেসিডেন্ট যদি বেসামরিক ব্যক্তি না হোন, তবে মালির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না।

বিজ্ঞাপন

এদিকে মালির রাজধানী বামাকোতে এরই মধ্যে নিত্যব্যবহার্য বিভিন্ন পণ্যের মজুত কমে আসছে। আশা করা হচ্ছে, বাহ এনদাউ প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ায় একোয়াসের পক্ষ থেকে শিগগিরই বাণিজ্যসংক্রান্ত ইতিবাচক ঘোষণা দেওয়া হবে।

বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মালিতে বাহ এনদাউ একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। সামরিক বাহিনী ও সাধারণ মানুষ—দুই পক্ষই তাঁকে শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখে। কর্নেল গোইতার সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ভালো। যদি কোনো কারণে বাহ এনদাউ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ব্যর্থ হোন, তবে তা সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ আরও বাড়াতে পারে। অন্যদিকে পশ্চিম আফ্রিকার অন্যান্য দেশের নেতারা মনে করছেন, মালিতে কোনো ধরনের জনবিক্ষোভ ব্যাপক আকার নিলে, তা পুরো অঞ্চলকেই অস্থির করে তুলতে পারে। সুতরাং মালি গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসবে কি না, তা আগামী ১৮ মাসেই বোঝা যাবে।

গত ১৮ আগস্ট মালিতে এক সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন ইব্রাহিম বুবাকার কেইতা। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থনৈতিক অপব্যবস্থাপনা ও নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। এই অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছিল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, তবে দেশটির সাধারণ মানুষ একে স্বাগত জানিয়েছিল।

মন্তব্য পড়ুন 0