default-image

মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল–সিসির সরকারের বিরুদ্ধে শুক্রবারও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এ সময় গুলিতে অন্তত এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো বিক্ষোভ হলো উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার দেশটিতে।

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভকারীরা শুক্রবারের ওই বিক্ষোভের নাম দিয়েছিলেন ‘শুক্রবারের ক্ষোভ’। এদিন মিসরের রাজধানী কায়রোসহ বিভিন্ন শহর, নগর ও গ্রামাঞ্চলে জুমার নামাজের পর এই বিক্ষোভ হয়।

কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল–জাজিজার খবরে জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কায়রোতে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘জোরে বলো, ভয় কোরো না, আল–সিসিকে গদি ছাড়তে হবে’। মিসরের প্রশাসনিক এলাকা গিজার বিক্ষোভের এক ভিডিওতে দেখা যায়, সেখানে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা।

বন্দর নগরী দামিয়েত্তায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, সেখানে পুলিশই প্রথমে বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দামিয়েত্তার কাফর এলাকায় বিক্ষোভকারীদের দিকে বন্দুক তাক করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছে।

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভকারীরের পরিচালিত আল–মাওকেফ আল–মাসরি নামের একটি ফেসবুক পেজে দাবি করা হয়েছে, গিজার আল–ব্লিদা এলাকায় বিক্ষোভের সময় গুলিতে সামি ওয়াগদি বশির নামের ২৫ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠন নাজদাও একই দাবি করে জানিয়েছে, গুলিতে তিন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন। মিসরের রাজনীতিক মোহাম্মদ আলী নিহত বশিরের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সামরিক বাহিনীর সাবেক ঠিকাদার ও মিসরের বিরোধী রাজনীতিক মোহাম্মদ আলী বর্তমানে নির্বাসনে রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বলেছে, শুক্রবারের বিক্ষোভের সময় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মিসরে সাম্প্রতিকতম এই বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে প্রেসিডেন্ট আল–সিসির একটি সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায়। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, দেশজুড়ে যত অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, সব গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। দেশটিতে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই এমন সিদ্ধান্তে অনেকে সহায়–সম্বল হারিয়ে পথে বসার আশঙ্কায় রয়েছেন। করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবিলায় সরকারের দেওয়া লকডাউনে এই অর্থনৈতিক সংকট আরও প্রকট হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মিসরে এর আগে গত বছর সরকারের অপচয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন বিরোধী রাজনীতিক মোহাম্মদ আলী। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, ওই বিক্ষোভের পর দেশটিতে কমপক্ষে চার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার এড়াতে মোহাম্মদ আলী বিদেশে পাড়ি জমান।

মিসরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সরকারকে হটিয়ে ২০১৩ সালে ক্ষমতা দখল করেন সশস্ত্র বাহিনীর তৎকালীন প্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। এরপরই তিনি অননুমোদিত জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

মন্তব্য পড়ুন 0