default-image

জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে ক্ষমতায় নেই কিন্তু মানুষের মাঝে তাঁর আগ্রহের কমতি নেই। প্রায়ই তিনি আলোচনায় থাকেন। জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবে এবার আলোচনায় এলেন ডলার-ভর্তি ব্রিফকেসের জন্য। ক্ষমতায় থাকার সময় বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য বারবার সমালোচনার মুখে পড়া মুগাবের ব্রিফকেস থেকে চুরি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার।

জিম্বাবুয়ের রাষ্ট্রায়ত্ত হেরাল্ড নিউজপেপারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে কালো ব্রিফকেস-ভর্তি ডলার নিজের গ্রামের বাড়ি জিভিমবায় গিয়েছিলেন রবার্ট মুগাবে। গ্রামের বাড়ি দেখাশোনা করেন এমন এক ব্যক্তিকে তিনি ব্রিফকেস-ভর্তি ডলার দিয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি তার আত্মীয় হন। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন একজন হলেন মুগাবের বাড়ির পরিচ্ছন্নতাকর্মী। রবার্ট মুগাবের ব্রিফকেস থেকে চুরি হয়েছে প্রায় ১০ লাখ ডলার। চলতি মাসেই দেড় লাখ ডলার চুরির অভিযোগে আদালতে তোলা হয়েছে তিন ব্যক্তিকে। কিন্তু আদালতে যে তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে মুগাবে বলছেন হারানো অর্থের পরিমাণ আরও অনেক বেশি।

কালো ব্রিফকেস থেকে ডলার চুরির সময় মুগাবে গ্রামের বাড়িতে ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত নয়।

ব্রিফকেসের ডলার চুরি হয়েছে গত বছরের পয়লা ডিসেম্বর থেকে এ বছরের জানুয়ারির শুরুর সময়ের মধ্যে। তার আত্মীয়কে তিনি জিজ্ঞেস করেও এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর পাননি। ওই আত্মীয় জানিয়েছেন তিনি কিছুই জানেন না। পরে মুগাবে আরেকজন কর্মীকে বিষয়টি দেখতে বলেন। এরপর যখন ব্রিফকেসটি পাওয়া গেল তখন তাতে ৭৮ হাজার ডলার ছিল। আদালতে দুই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ওই অর্থ তাঁরা গাড়ি, বাড়ি ও পশু কিনতে ব্যয় করেছেন।

দেশটির সরকারি কৌঁসুলি তেভারেইসি জিনিয়াম্বা আদালতে বলেন, ‘জোহানে মাপুরিসা নামের এক ব্যক্তি এই ঘটনার পর টয়োটা গাড়ি এবং ২০ হাজার ডলারে ব্যয় করে একটি বাড়ি কিনেছিলেন। সায়মোর নেহতেকাওয়া নামের অপর এক ব্যক্তি একটি হোন্ডা মোটরসাইকেল...এবং গৃহপালিত পশু কিনেছেন। ’

৯৪ বছর বয়সী মুগাবেকে ২০১৭ সালে অনেকটা জোর করেই ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয় সেনাবাহিনী। এর আগে ৩৭ বছর দেশ শাসন করেছেন তিনি। প্রথমে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও পরে প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। মুগাবের লাখো ডলার হারানোর খবর এমন সময় এল যখন দেশটির অর্থনৈতিক সংকটের কারণে খাদ্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এর ফলে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমারসন এমনানগাগওয়া। বিক্ষোভের ফলে প্রেসিডেন্ট তাঁর ইউরোপ সফর বাতিল করেছেন।

ক্ষমতা হারানোর পর থেকে মুগাবে তেমন হাঁটাচলা করতে পারেন না। চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরেও গিয়েছিলেন তিনি। তথ্যসূত্র: বিবিসি

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0