বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সুদানের ক্ষমতা দখলকারী সামরিক সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশটির বেসামরিক সরকার উৎখাত করে সেনাবাহিনী।

সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ হামদকসহ মন্ত্রিসভার প্রায় সব সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। বন্ধ করে দেওয়া হয় রাজধানী খার্তুমের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বন্ধ করা হয় ইন্টারনেট পরিষেবা।

এ ঘটনার পর থেকে দেশটির রাজধানী খার্তুমে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। শহরের বিভিন্ন সড়কে ‘ব্যারিকেড’ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। রাস্তায় পোড়ানো হচ্ছে গাড়ির টায়ার। অসহযোগ কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছে।

গতকাল খার্তুমে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের চতুর্থ দিনের মতো সংঘর্ষ হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, এদিন খার্তুমের পূর্বাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে নতুন করে সংঘর্ষ হয়।

বিক্ষোভ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকদের একটি কমিটি জানিয়েছে, গতকাল খার্তুমের উত্তরাঞ্চলীয় এলাকায় সংঘর্ষে এক বিক্ষোভকারী নিহত হন।

গতকাল বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে নিরাপত্তা বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিনের সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়া ছাড়াও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা সেনাবাহিনীকে ক্ষমতায় দেখতে চাই না। আমরা এ দেশে মুক্তভাবে গণতান্ত্রিক জীবন যাপন করতে চাই।’
কাল শনিবার আরও বড় বিক্ষোভ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশটির অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভকারীরা।

সুদানে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের ঘটনা নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ জানিয়ে গতকাল একটি বিবৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে বিবৃতিটি পাস করেছে। কোনো ধরনের শর্ত ছাড়াই সংলাপে অংশ নিতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ।

সুদানে সামরিক অভ্যুত্থানের নিন্দা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতির পর পৃথক বিবৃতি দিয়েছেন তিনি। বাইডেন বলেছেন, সুদানের সেনা কর্তৃপক্ষের প্রতি তাঁদের বার্তা কঠোর ও স্পষ্ট। সুদানের জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করতে দিতে হবে। বেসামরিক নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার পুনঃস্থাপন করতে হবে।

বাইডেন আরও বলেন, সম্প্রতি সুদানে যেসব ঘটনা ঘটেছে, তা খুব হতাশাজনক। তবে যুক্তরাষ্ট্র বরাবরের মতো সুদানের জনগণের পাশে থাকবে। তাদের অহিংস লড়াইকে সমর্থন জুগিয়ে যাবে।

বিশ্বব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে সুদানে সহযোগিতা বন্ধ করে দিয়েছে। তারা সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের নিন্দা জানিয়েছে।

সেনা অভ্যুত্থানকে ‘অসাংবিধানিক’ উল্লেখ করে জোট থেকে সুদানের সদস্যপদ স্থগিত করেছে আফ্রিকান ইউনিয়ন।

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে সুদানের সেনাবাহিনী। এরপর ক্ষমতা ভাগাভাগি করে দেশটি শাসন করছিল সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক সরকার। গত সেপ্টেম্বরে বশিরের অনুসারীদের একটি অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে দেশটিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ে। সর্বশেষ সোমবার দেশটির শাসনক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। সেনাশাসনের বিরোধিতায় রাজপথে নামেন দেশটির বহু মানুষ।

আফ্রিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন