বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার খার্তুমের আল দাইম এলাকায় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন, ‘এ বিপ্লব জনগণের বিপ্লব। সেনাবাহিনী, ব্যারাকে ফিরে যাও।’ পূর্ববর্তী বিক্ষোভের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

রাজধানীর পার্শ্ববর্তী সাহাফা এলাকায় একটি প্রধান সড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের হাতে ছিল সুদানি পতাকা। সামরিক নেতা আবদেল ফাত্তাহ আল–বুরহানের নাম উল্লেখ করে তাঁরা স্লোগান দিচ্ছিলেন, ‘বুরহান, তোমার শাসন চাই না, সামরিক শাসন চাই না।’

পোর্ট সুদান, কাসালা, ওয়াদ মাদানি, পশ্চিম দারফুরের এল জিনিইনাসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব বিক্ষোভ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

জাতিসংঘ আলাদা করে জানিয়েছে, ১৭ নভেম্বর থেকে পশ্চিম দারফুরের জেবেল মুন এলাকায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সহিংসতায় কমপক্ষে ৪৩ জন নিহত হওয়ার খবর পেয়েছে তারা। ৪৬টি গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। লুটপাটও হয়েছে সেখানে।

সুদানে নিযুক্ত জাতিসংঘ মিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘নারীদের ধর্ষণের শিকার হওয়া ও ২০ শিশু নিখোঁজের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগে আছি আমরা।’

টানা তিন দশক ক্ষমতায় থাকার পর ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল সুদানের সেনাবাহিনী। এর পর থেকে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে দেশটিতে শাসন করছিল সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক সরকার। গত ২৫ অক্টোবর সুদানের সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান করে রাষ্ট্রক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়।

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সুদানের সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান দেশটিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন। এ সময় গৃহবন্দী করা হয় সুদানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ হামদককে। আটক হন দেশটির প্রভাবশালী মন্ত্রী ও রাজনীতিকেরা। তবে রোববার সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমঝোতার পর গৃহবন্দী আবদাল্লাহ হামদকের চলাফেরার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সুদানের সেনাবাহিনী। রাজধানী খার্তুমে তাঁর বাড়ির সামনে থেকে সেনাসদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

আফ্রিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন