বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

টানা তিন দশক ক্ষমতায় থাকার পর ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল সুদানের সেনাবাহিনী। এর পর থেকে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে দেশটিতে শাসন করছিল সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক সরকার। গত ২৫ অক্টোবর সুদানের সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান করে রাষ্ট্রক্ষমতার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয়।

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সুদানের সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান দেশটিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভেঙে দিয়ে জরুরি অবস্থা জারি করেন। এ সময় গৃহবন্দী করা হয় সুদানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী আবদাল্লাহ হামদককে। আটক হন দেশটির প্রভাবশালী মন্ত্রী ও রাজনীতিকেরা।

এর পর থেকে রাজধানী খার্তুমসহ সুদানের বিভিন্ন শহরে সেনাশাসনবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। রাষ্ট্রক্ষমতা পুরোপুরি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের হাতে অর্পণ এবং সাম্প্রতিক ওই অভ্যুত্থানের নেতাদের বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশটিতে সংঘাতে অন্তত ৪০ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে সুদানের সেনাবাহিনীর ওপর চাপ তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো ও জাতিসংঘ। দুই পক্ষের সমঝোতার জন্য সুদানের শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, রাজনীতিকদের নিয়ে নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধিদল কাজ শুরু করে। এর সুফল মিলে গত রোববার। ওই দিন আবদাল্লাহ হামদক ও জেনারেল বুরহানের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার খবর পাওয়া যায়।

এই সমঝোতার মধ্য দিয়ে গৃহবন্দী আবদাল্লাহ হামদক ক্ষমতায় ফিরেন। কয়েকজন রাজবন্দীদের মুক্তি দেওয়া হয়। পশ্চিমা দেশগুলো এই সমঝোতাকে স্বাগত জানায়। তবে সুদানের প্রধান বিরোধী দলগুলোর জোট এমন সমঝোতা মানতে নারাজ। তারা দেশটিতে সেনাশাসনের পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাহার চান। এই দাবিতে দেশটির রাজপথে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ চলছে। এর মাঝেই আবদাল্লাহ হামদক সরকারের ১২ জন প্রভাবশালী মন্ত্রীর একযোগে পদত্যাগের ঘটনা ঘটলো।

আফ্রিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন