default-image

প্রতিকূল আবহাওয়ায় মিসরের সুয়েজ খালে কনটেইনারবাহী জাহাজ আটকা পড়ার তিন দিন পেরিয়ে গেছে। এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। বন্ধ রয়েছে জাহাজ চলাচল। তবে তিন দিনেও আশার খবর শোনাতে পারেননি উদ্ধারকারীরা। আজ বৃহস্পতিবার মিসরের সুয়েজ খাল কর্তৃপক্ষ (এসসিএ) জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুয়েজ খালে জাহাজ চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হবে। কবে নাগাদ উদ্ধারকাজ শেষ হবে, সেই বিষয়েও কিছু জানাতে পারেনি এসসিএ।

কাতারভিত্তিক আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার সকালে সুয়েজ কাল অতিক্রমের সময় প্রবল বাতাস আর ধূলিঝড়ের কবলে পড়ে ৪০০ মিটার দীর্ঘ কনটেইনারবাহী জাহাজটি। তাইওয়ানের এভারগ্রিন মেরিন করপোরেশন লিজ নিয়ে এটি পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হঠাৎ প্রবল বাতাস আর ধূলিঝড়ে জাহাজটির গতিপথ বদলে যায়। এটির নিচের অংশ আড়াআড়িভাবে তীরের মাটিতে আটকে যায়।

জাহাজটি দৈর্ঘ্যে ৪০০ মিটার, প্রস্থে ৫৯ মিটার। এটি ২০ ফুটের ২০ হাজার কনটেইনার পরিবহনে সক্ষম। ঘটনার সময় এটি পণ্যবাহী কনটেইনারে পূর্ণ ছিল। গতকাল বুধবার থেকেই উদ্ধার অভিযান শুরু করে কর্তৃপক্ষ। আটটি টাগ বোট উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

এই ঘটনায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত এই নৌপথে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। খালের দুই পাশে নজিরবিহীন জাহাজ জট দেখা দেয়। আল-জাজিরা বলছে, ঘটনার পর সুয়েজ খালের দুই পাশে প্রায় ১৫০টি পণ্যবাহী জাহাজ পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
default-image

তবে উদ্ধারকাজে এখনো সফলতা মেলেনি। তাই কবে নাগাদ উদ্ধারকাজ শেষ হবে এবং সুয়েজ খাল দিয়ে আবারও জাহাজ চলাচল শুরু হবে, সে বিষয়েও নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। আজ এসসিএ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়েছে, উদ্ধারকাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগে এই খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল সাময়িক বন্ধ রাখা হবে।

বিশ্ববাণিজ্যে সুয়েজ খালের গুরুত্ব অনেক। এটি নৌপথে এশিয়া ও ইউরোপের দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। ফলে সুয়েজ খাল ব্যবহার করে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে তুলনামূলক কম খরচে পণ্য পরিবহন করা যায়। বৈশ্বিক পণ্য বাণিজ্যের ১২ শতাংশ সুয়েজ খাল হয়ে পরিবহন করা হয়।

মিসরের জাতীয় আয়ের বড় একটি উৎস সুয়েজ খাল। এসসিএ বলছে, গত বছর সুয়েজ খাল দিয়ে প্রায় ১৯ হাজার পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। প্রতিদিন গড়ে ৫১টির বেশি জাহাজ এ জলপথ পাড়ি দিয়েছে। গত বছর ১১৭ কোটি টন পণ্য সুয়েজ খাল দিয়ে গন্তব্যে গেছে।

সুয়েজ খালে আটকে পড়া জাহাজটির মালিক জাপানি শিপিং কোম্পানি শোয়েই কিসেন খাইসা। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা তোশিয়াকি ফুজিওয়ারা এএফপিকে বলেন, ‘আমরা এখনো জানি না আটকে পড়া জাহাজটি আবারও জলে ভাসাতে কত সময় লাগতে পারে। উদ্ধারকাজে আমরা এখনো দৃশ্যমান কোনো উন্নতি দেখিনি।’

আফ্রিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন