default-image

উগান্ডায় ৩৫ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ইউয়ারি মুসেভিনি (৭৬) আবারও জিততে চলেছেন। ষষ্ঠ মেয়াদে ক্ষমতায় যেতে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তিনি। গতকাল শুক্রবার নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, তিনি ব্যাপক ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাবেক সংগীত তারকা ববি ওয়াইন। খবর বিবিসির।

এদিকে নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন ববি। তাঁর অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, তিন দিন ধরে ইন্টারনেট–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকায় ভোটের ওপর আস্থা নষ্ট হয়েছে।

আজ শনিবার ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে চলা সহিংসতায় কয়েক ডজন লোক প্রাণ হারিয়েছেন। বিরোধীদলীয় রাজনীতিকেরা সরকারের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন।

বৃহস্পতিবার ভোটের দিন সবচেয়ে ভয়াবহ নির্বাচনী সহিংসতা সংঘটিত হতে দেখা গেছে। সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার হন অনেক বিরোধীদলীয় নেতা–কর্মী। কেন্দ্রগুলোতে ভোট পর্যবেক্ষণেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

৭৬ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট মুসেভিনি বলেন, দেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দাঁড়িয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ৩৮ বছর বয়সী ববি ওয়াইন বলেন, বিশ্বের নবীনতম রাষ্ট্রটিতে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

গতকাল ভোটের ফলাফল আসতে থাকার সঙ্গে সঙ্গে ববি ওয়াইন বলেন, সেনারা তাঁর বাড়ি ঘেরাও করেছে। ঢুকেছে বাড়ির ভেতরেও। টুইটারে তিনি লেখেন, ‘অনুপ্রবেশকারী সেনাসদস্যরা আমাদের সঙ্গে কথা বলছেন না। আমরা কঠিন সমস্যায় আছি।’ তবে সরকারের একজন মুখপাত্র অভিযোগ করেন, ববি লোকজনের সহানুভূতি কাড়তে ঘটনা নিয়ে নাটক সাজাচ্ছেন।

default-image

নির্বাচন কমিশন বলেছে, দুই–তৃতীয়াংশ ভোটকেন্দ্র থেকে পাওয়া সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী মুসেভিনি ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ববি পেয়েছেন ৩০ শতাংশ। কমিশনের প্রধান সিমন বাইবাকামা বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে। ববি নির্বাচনে জালিয়াতির যে অভিযোগ করেছেন তার সপক্ষে প্রমাণ দেওয়ার জন্য তাঁর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বিরোধীদলীয় প্রার্থী ববি বলেন, নির্বাচনে অনিয়ম করতে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার ও আমার স্ত্রীর ফোন নম্বরসহ আমাদের কয়েকটি ফোন নম্বর অবৈধভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার ভোটের দিন সবচেয়ে ভয়াবহ নির্বাচনী সহিংসতা সংঘটিত হতে দেখা গেছে। সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার হন অনেক বিরোধীদলীয় নেতা–কর্মী। কেন্দ্রগুলোতে ভোট পর্যবেক্ষণেও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

default-image

১৯৯০ সালের দিকে আফ্রিকার প্রায় কোনো দেশেরই প্রেসিডেন্ট কত দিন ক্ষমতায় থাকবেন, তার মেয়াদ নির্ধারিত ছিল না। এরপর মেয়াদ শেষে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার নজির স্থাপন করেন বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা। দক্ষিণ আফ্রিকায় গণতন্ত্রের ওই ঢেউয়ে আফ্রিকার প্রায় ৫০টি দেশে নতুন সংবিধান পাস হয়। এর মধ্যে ৩০টি সংবিধানে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এখন কাগজে–কলমে আফ্রিকার এক-তৃতীয়াংশ দেশেই এ মেয়াদ নির্ধারিত আছে। কিন্তু অনেক নেতাই এ নিয়ম মানতে চাইছেন না। উগান্ডা ২০০৫ সালে ওই আইন বাতিল করে এবং ২০১৭ সালে বয়সের বাধার নিয়মও তুলে দেয়।

বিজ্ঞাপন
আফ্রিকা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন