default-image

ইথিওপিয়ার গোলযোগপূর্ণ উত্তরাঞ্চলীয় তাইগ্রের বেশির ভাগ এলাকায় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। কয়েক সপ্তাহ ধরে ইথিওপিয়ার বিদ্রোহী দল তাইগ্রে পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টের (টিপিএলএফ) সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘাত চলছে। এরই মধ্য তাইগ্রের রাজনীতিবিদেরা বলছেন, তাঁরা সেনাবাহিনীর হাজারো সদস্যকে ছেড়ে দিয়েছেন। টিপিএলএফের রাজনীতিবিদেরা বলছেন, তাঁদের হাতে বন্দী থাকা চার হাজারেরও বেশি সেনাসদস্যকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তিন হাজার সেনাকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, টিপিএলএফের কর্মকর্তারা বলছেন, মুক্তি পাওয়া সেনাসদস্যরা ইথিওপিয়া সেনাবাহিনীর উত্তর কমান্ডের অংশ ছিলেন। তাইগ্রে সেনাদের ফেডারেল সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণের সময় তাঁদের আটক করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গতকাল সোমবার ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ ঘোষণা দেন, সেনাবাহিনী এ যুদ্ধে জয় পেয়েছে। তবে টিপিএলএফের রাজনীতিবিদেরা বলেছেন, তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, কমপক্ষে তিন হাজার সৈন্যকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে তিন সপ্তাহ ধরে ফেডারেল সরকারের সেনাদের সঙ্গে লড়াই করছেন টিপিএলএফের ফ্রন্টের যোদ্ধারা। লড়াইয়ে কয়েক শ মানুষ নিহত ও ৪৫ হাজারের বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

তাইগ্রেতে ফেডারেল সেনাদের কয়েকটি ফাঁড়িতে হামলার জের ধরে গত ৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী আবি টিপিএলএফ মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন।

সরকার এই হামলার জন্য গোষ্ঠীটিকে দায়ী করেছে। অভিযান থামাতে কোনো আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার কথাও নাকচ করে দিয়েছে সরকার।

১৯৯১ সালে টিপিএলএফের নেতৃত্বে ইথিওপিয়া থেকে সামরিক সরকার উৎখাত করা হয়। ২০১৮ সালে আবি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগপর্যন্ত দেশটির রাজনীতিতে নিয়ন্ত্রণ ছিল এই গোষ্ঠীর। তবে এরপর থেকে গোষ্ঠীটির নেতারা অভিযোগ করে আসছেন, আবি তাঁদের এড়িয়ে চলেছেন। দেশের দুর্দশাময় পরিস্থিতির জন্যও আবি সরকারকে অভিযুক্ত করেন তাঁরা। আর তখন থেকেই শুরু আঞ্চলিক নেতৃত্ব ও ফেডারেল সরকারের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, মেকেলে শহরে বোমা হামলা হলে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হতে পারে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন