অঘোষিত জাপান সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন
default-image

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ জারিফ এখন এক অঘোষিত সফরে জাপানে অবস্থান করছেন। সফরের কারণ সম্পর্কে কোনো পক্ষ থেকেই কিছু জানানো হয়নি। তবে জাপানের সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, পারস্য উপসাগর এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রশমনে জাপানকে জড়িত করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে তাঁর এই অনির্ধারিত সফর। গত কয়েক দিনে তিনি একইভাবে ফ্রান্স ও চীন সফর করেন।

ফ্রান্সে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন এক সময়ে উপস্থিতি হন, যখন দেশটিতে সাতটি অগ্রসর রাষ্ট্রের জোট জি-৭ এর নেতারা নিয়মিত বার্ষিক সম্মেলনে মিলিত হয়েছিলেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের ঠিক পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান নিয়ে কিছুটা নরম সুরে কথা বলতে শুরু করেন। তাই অনেকেই মনে করেছেন, সফর অঘোষিত হলেও এ সম্পর্কে আগে থেকেই ট্রাম্প অবহিত ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো একপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা হয়তো হয়ে থাকবে।

ফ্রান্স সফর শেষ করে জাভাদ জারিফ গিয়েছিলেন বেইজিং, যেখানে তিনি পারস্য উপসাগর পরিস্থিতি নিয়ে চীনের সমর্থন প্রত্যাশা করেন। চীন সফর শেষ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ মঙ্গলবার সকালে জাপানে এসে পৌঁছান। জাপানে এখন আফ্রিকার উন্নয়ন সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে মহাদেশের বিভিন্ন দেশের নেতারা সমবেত হয়েছেন। পরোক্ষে এঁদের সমর্থন প্রত্যাশাও ঠিক এই সময়ে তাঁর জাপান সফরের অন্য একটি উদ্দেশ্য হতে পারে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটা নিশ্চিত করতে চান যে, জাপান যেন উপসাগর সমস্যা নিয়ে নিজস্ব অবস্থান থেকে সরে না যায়। যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়ে ওয়াশিংটনের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানালেও জাপান সেই ডাকে সাড়া দেয়নি। ফলে ইরান চাইছে জাপান যেন সেই অবস্থান ধরে রাখে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ সন্ধ্যায় জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনোর সঙ্গে প্রায় ৫০ মিনিট বৈঠক করেছেন। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে উপসাগর অঞ্চলের উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সার্বিকভাবে স্থিতিশীল করে তোলা নিয়ে মতামত বিনিময় করেন। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর ইরানি প্রতিপক্ষকে বলেছেন পরিস্থিতি শান্ত করে আনায় সম্ভাব্য সর্বোত্তম ভূমিকা জাপান পালন করবে।

তবে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেছেন ইরানের সঙ্গে ছয়টি পরমাণু শক্তির অধিকারী রাষ্ট্রের ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি সমর্থন করে তাঁর দেশ। সে জন্য জাপান মনে করে চুক্তির শর্তাবলি ইরানের মেনে চলা উচিত এবং বিলম্ব না করে পরমাণু চুক্তির প্রতি রাষ্ট্রের অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার অবস্থানে ফিরে গিয়ে পারমাণবিক চুক্তির প্রতি অবজ্ঞা-প্রদর্শন করা হতে পারে, সেরকম কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা। দুই মন্ত্রী এ ছাড়া অঞ্চলের উত্তেজনা হ্রাস এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে তুলতে জাপান ও ইরানের মধ্যেকার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতেও সম্মত হয়েছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগামীকাল বুধবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন