জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, আজকের অধিবেশনের আলোচ্যসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর বিতর্কের বিষয়টি রেখে বুধবার রাতে আদেশ জারি করে জাতীয় পরিষদের সচিবালয়। গত সোমবার বিরোধী নেতা শাহবাজ শরিফ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন। এ নিয়ে তৃতীয় কোনো পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী অনাস্থা প্রস্তাবের মুখোমুখি হলেন।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে মোট আসন ৩৪২টি। ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ১৭২টি ভোটের প্রয়োজন হবে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জিও নিউজের হিসাব অনুযায়ী, বিরোধী জোটের হাতে রয়েছে ১৯৯ ভোট। অন্যদিকে ইমরান সরকারের রয়েছে ১৪২ ভোট। প্রস্তাবের ওপর বিতর্কের পর আগামী ৩ এপ্রিল ভোটাভুটি হতে পারে।

এদিকে স্থগিত করার এক দিন পরই বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন ইমরান খান। তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী আজ এক টুইটে বলেন, রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রশিদও একই তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। তিনি দাবি করেন, আগামী দুই দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে ইমরান খান অবিচল অবস্থান নিয়েছেন।

এর আগে বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল ইমরান খানের। তবে পরে কোনো কারণ না জানিয়েই তা স্থগিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগী ফায়সাল জাভেদ বলেন, জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ স্থগিত করা হয়েছে। তবে স্থগিতের কোনো কারণ তিনি জানাননি।

জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক

অন্যদিকে একটি বিদেশি শক্তি কর্তৃক ‘হুমকি দিয়ে চিঠি’ প্রেরণের বিষয়টি আলোচনা করতে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। আজ বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী এক টুইটে বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন। নিরাপত্তা ইস্যু সমন্বয়ে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটিই দেশটির সর্বোচ্চ ফোরাম।

এর আগে গত রোববার এক সমাবেশে একটি চিঠি দেখিয়ে ইমরান খান বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে বিদেশি ষড়যন্ত্রের প্রমাণ এই চিঠি। তাঁর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব এই বিদেশি ষড়যন্ত্রেরই অংশ। তাঁর এ অভিযোগের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

জিও নিউজের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, অনাস্থা প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা এবং প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ‘হুমকি দিয়ে চিঠি লেখার’ বিষয়টি ভিত্তিহীন।

পাকিস্তানের সাবেক এক কূটনীতিক বলেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক পাকিস্তানি কূটনীতিকের বৈঠকে নেওয়া নোটের প্রতি হয়তো ইঙ্গিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। চিঠিতে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওই কূটনীতিকের নিজস্ব মূল্যায়নও থাকতে পারে।

পার্লামেন্টে আনা বিরোধীদের অনাস্থা ভোটে পাকিস্তানে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রীর বিদায় নিতে হতে পারে। সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের কারণে পাকিস্তানে এর আগেও কোনো প্রধানমন্ত্রী তাঁর মেয়াদ পূর্ণ করে যেতে পারেননি।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন