অনিশ্চয়তার মধ্যে নেপালে মধ্যবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

নেপালের পার্লামেন্ট
ছবি: এএনআই

অনিশ্চয়তার মধ্যে নেপালে মধ্যবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৫ জুলাই থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এনডিটিভি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

নেপালের নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার মধ্যবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য ১৫ থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোকে কমিশনে নিবন্ধন করতে হবে।

নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধনের এ আবেদন জুলাই মাসের শেষ দিকে যাচাই ও অনুমোদন করা হবে। আগামী ৭ আগস্ট তা প্রকাশ করবে কমিশন।

প্রথম দফার নির্বাচন আগামী ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য প্রার্থীদের আগামী ৭ ও ৮ অক্টোবর মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। আর দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর।

এদিকে, ভোট নিয়ে অনিশ্চয়তা কাজ করছে। কারণ, নেপালের আইনসভার নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এ রকম অন্তত ৩০টি আবেদন আদালতে জমা পড়েছে।

এ আবেদনের ওপর শুনানি নিচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ। পাঁচ সদস্যের এ বেঞ্চে সবশেষ গতকাল সোমবার শুনানি হয়। পরবর্তী শুনানির জন্য ১২ জুলাই তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এদিনই এ বিষয়ে রায় দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির সুপারিশে দেশটির প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভান্ডারি গত ২২ মে প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দেন। পাঁচ মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো এমন ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঘোষণা দেন। দেশটিতে আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম দফা ও ১৯ নভেম্বর দ্বিতীয় দফার নির্বাচন হওয়ার কথা।

তার আগে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা নিম্নকক্ষে আস্থা ভোটে হেরে যান। এখন তিনি একটি সংখ্যালঘু সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

নেপালে রাজনৈতিক সংকটের শুরু গত বছরের ডিসেম্বরে। দেশটির ক্ষমতাসীন নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যকার ক্ষমতার দ্বন্দ্বের জেরে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ভেঙে দিতে প্রেসিডেন্টকে সুপারিশ করেন। সেই সুপারিশ অনুযায়ী গত ২০ ডিসেম্বর প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট। এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা হয়। পরে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।