default-image

আফগান যুদ্ধের সময় অস্ট্রেলিয়ার সেনাদের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানে ৩৯ জন নিরীহ মানুষকে হত্যার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।

অস্ট্রেলীয় সেনাদের অসদাচরণের বিষয়ে চার বছরের তদন্ত শেষে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্স ফোর্স (এডিএফ)। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এডিএফ প্রতিবেদনে বলেছে, ১৯ জন বর্তমান ও সাবেক সেনার বিরুদ্ধে অবশ্যই পুলিশের তদন্ত করতে হবে। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বন্দী, কৃষক ও বেসামরিক লোকজনকে হত্যায় তাঁরা জড়িত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেআইনিভাবে রক্তের অভিলাষ এবং প্রতিযোগিতা করে হত্যার মতো পরিবেশে ৩৯ জন আফগানবাসীকে হত্যার ঘটনা ঘটেছিল।

গতকাল বৃহস্পতিবার এডিএফের প্রধান জেনারেল অ্যাংগাস ক্যাম্পবেল বলেন, আফগানিস্তানে দায়িত্বরত অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ বাহিনীর কিছু সদস্যের মধ্যে একধরনের ‘যোদ্ধা সংস্কৃতি’ মনোভাব ছিল। অভিযোগ ওঠা এমন একটি ঘটনা সম্ভবত অস্ট্রেলিয়ার সামরিক ইতিহাসের সবচেয়ে লজ্জাজনক পর্ব।

এডিএফ তাদের চার বছরের তদন্তে দেখেছে, আফগানিস্তানে কিছু অস্ট্রেলীয় প্যাট্রল কমান্ডারকে ‘উপদেবতা’ হিসেবে গণ্য করা হতো। তাঁরা তাঁদের অধীন জুনিয়র সেনাদের ‘প্রথম হত্যার কৃতিত্ব অর্জন করার জন্য’ বন্দীদের গুলি চালানোর নির্দেশ দিতেন। এই প্রক্রিয়াকে বলা হতো ‘ব্লাডিং’।

সিএনএন জানিয়েছে, অস্ট্রেলীয় সেনারা যে ৩৯ জনকে হত্যা করেছিলেন, তাঁরা কেউ যোদ্ধা ছিলেন না। কেউই অস্ত্রধারী কেউ ছিলেন না।

প্রতিবেদনে উঠে আসা অভিযোগের জন্য ক্যাম্পবেল আন্তরিক ও অকপটভাবে আফগানিস্তানের জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এটি আফগান পরিবার ও সম্প্রদায়ের জীবনকে ধ্বংস করে দেয় এবং প্রচণ্ড কষ্ট ও যন্ত্রণার কারণ।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্তের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর জেনারেল জাস্টিস পল ব্রেরেটন। তিনি ৪০০ জনের বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। তদন্তে দেখা গেছে, ব্লাডিং বা রক্তপাত অনুশীলনের জন্য বন্দীদের গুলি করে মারার জন্য অধীনদের আদেশ দিতেন ঊর্ধ্বতনেরা। এ অপরাধ ঢাকতে মৃতদেহের পাশে অস্ত্রসহ অন্যান্য বস্তু রেখে দেওয়া হতো। দুটি ভিন্ন ঘটনায় নির্যাতনের বিষয়টি যুদ্ধাপরাধের মধ্যে পড়ে।
ক্যাম্পবেল বলেছেন, স্পেশাল এয়ার সার্ভিসের (এসএএস) সেনাদের বিরুদ্ধেও আইন নিজের হাতে নেওয়ার প্রমাণ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন প্রতিবেদনে দেশটির বিশেষ বাহিনী সম্পর্কে অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য কঠিন এবং কঠোর সংবাদসংবলিত বার্তার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনির অফিস জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবেদন সম্পর্কে আফগানিস্তান কোনো মন্তব্য করেনি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য মিত্রদের সঙ্গে চলমান শান্তিরক্ষা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া আফগানিস্তানে প্রায় ৪০০ সৈন্য রেখেছে।

মন্তব্য পড়ুন 0