কিন্তু সেই অভিবাসন কর্মকর্তা মোস্তফাকে ছবি আঁকার সরঞ্জাম দেননি। তাঁদের ধারণা ছিল, ছবি আঁকার রং খেয়ে মোস্তফা আত্মহত্যার চেষ্টা করতে পারেন। ফলে হতাশ হয়ে আটককেন্দ্রে নিজ কক্ষে ফিরে তিনি বিষয়টি বাকিদের জানিয়েছিলেন। যখন এই কথাগুলো সতীর্থদের বলছিলেন, তখন টেবিলের ওপর এক কাপ কফি ও একটি টুথব্রাশ ছিল। সেসব নিয়েই কাজে নেমে পড়েন তিনি।

মোস্তফা বলেন, ‘আমি জানি না, ঠিক কী ঘটেছিল সেই মুহূর্তে। কিন্তু সেই মুহূর্তটা ছিল আমার জন্য বিশেষ। আমি সেই কফি আর টুথব্রাশ নিয়ে কাগজে আঁকা শুরু করি।’ আর সেই মুহূর্তটাকেই বিজয়ের মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মোস্তফা। এরপর থেকেই শুরু হয় টুথব্রাশ দিয়ে তাঁর ছবি আঁকার যাত্রা।

আর্চিবাল্ড প্রাইজের জন্য মোস্তফার যে সেলফ পোর্ট্রেট মনোনয়ন পেয়েছে, সেটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘কেএনএস০৮৮’। এই নামটি দেওয়ার পেছনেও একটি গল্প আছে। অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন বিভাগে আটকা পড়া মানুষদের নাম ধরে ডাকা হয় না। ডাকা হয় একটি নম্বর ধরে। মোস্তফার জন্য সেই নম্বরটি ছিল কেএনএস০৮৮। ওই নাম দেওয়ার কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছবির নাম এটা দেওয়ার কারণ হলো, তিনি মানুষ, তিনি কোনো সংখ্যা নন।

মোস্তফা বলেন, ‘শিল্পকর্ম এবং আঁকা ছবি আমাকে শক্তিশালী করেছে। কারণ, আমি যখন ছবি আঁকতাম, তখন কোনো ধরনের ট্রমা অনুভব করতাম না।’

অস্ট্রেলিয়ার ওই আটককেন্দ্রে ট্রমা অনুভব করার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে। পাপুয়া নিউগিনির ওই আটককেন্দ্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে। এ জন্য সেই আটককেন্দ্র বন্ধের আহ্বানও জানিয়েছে জাতিসংঘ।

যা হোক, মোস্তফা সেই আটককেন্দ্র থেকে ছাড়া পেয়ে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু সেখানেও তাঁকে রাখা হয়েছিল একটি হোটেলে।

সেটিও আটককেন্দ্র। সেখানে ছবি আঁকা কঠিন হয়ে পড়ে তাঁর জন্য। এরপর গত বছরের জানুয়ারিতে তিনি ছাড়া পান এবং কাজ করার অনুমতি পান। এরপর থেকে মোস্তফা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের হয়ে কাজ করছেন। তবে ছবি আঁকা ছেড়ে দেননি তিনি। বলেন, ‘টুথব্রাশ আমার ভালো বন্ধু।’

মোস্তফার যে ছবিটি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছে, তার মধ্য দিয়ে একজন শরণার্থীর কষ্ট, দুঃখ ও শক্তির জায়গাটি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আর্চিবাল্ড পুরস্কার জয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে ১৩ মে। পুরস্কার জিতলে তিনি পাবেন ৭২ হাজার ১৯২ মার্কিন ডলার।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন