default-image

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর অভিযানের খবর তাঁর সরকার পায়। বিবিসির সঙ্গে আলাপচারিতায় বাশার বলেন, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তাঁদের এ খবর দেওয়া হয়। খবর বিবিসির।
বাশার আল-আসাদ বিবিসির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সম্পাদক জেরেমি বোয়েনকে মঙ্গলবার দামেস্কে এক সাক্ষাৎকার দেন। এতে তিনি বলেন, ইরাকসহ কয়েকটি ‘তৃতীয়’ দেশ আইএসবিরোধী অভিযানের তথ্য তাঁদের দেয়। আন্তর্জাতিক জোট বাহিনীর আইএসবিরোধী বিমান হামলায় সিরিয়া সরাসরি কোনো সহযোগিতা করছে না বলেও জানান বাশার।
কট্টর সুন্নিপন্থী আইএস সিরিয়া ও ইরাকে অস্থিতিশীলতার সুযোগে দেশ দুটির বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে সেখানে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা দিয়েছে। আইএস সংখ্যালঘুসহ তাদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে নির্মম দমন অভিযান চালানোয় যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি আরব দেশসহ মিত্রদের নিয়ে গত সেপ্টেম্বর মাসে ওই বিমান হামলা শুরু করে।
জোটের বিমান হামলায় অংশগ্রহণকারী কয়েকটি দেশ বাশার আল-আসাদের বিরোধী। এসব দেশ ২০১১ সালে সিরিয়ায় আসাদবিরোধী অভ্যুত্থান শুরু হলে তাঁকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছিল। তবে আইএস সিরিয়া ও ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে ফেলার পর এই জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াইয়ে অনেকেই বাশারকে পাশে পেতে চায়।
বাশার বিবিসিকে বলেন, ‘না, আমাদের কোনো ইচ্ছা নেই এই জোটে যোগ দেওয়ার। কেবল আইএসকে হারানোর জন্য সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে এমন সব দেশের সঙ্গে আমি যেতে চাই না।’
বাশার বলেন, ‘আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতা করতে আমার আপত্তি নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমি কথা বলতে চাই না। কেউ যদি হাতের পুতুল না হয়, তবে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কথা বলে না।’
বাশার তাঁর বিরোধী বিদ্রোহীদের এলাকায় ব্যারেলবোমা ব্যবহারের অভিযোগকে ‘শিশুতোষ গল্প’ বলে উড়িয়ে দেন। বড় সিলিন্ডারের এই বোমায় বিস্ফোরক ও ধারালো ধাতব টুকরা থাকে। হেলিকপ্টার থেকে ফেলা এ বোমায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বাশার বলেন, ‘ওরা আন্তর্জাতিক আইনকে সহজেই অগ্রাহ্য করতে পারে। আমাদের সার্বভৌমত্ব নিয়েও এখন সেই চেষ্টাই করছে তারা। তাই আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চায় না। আমরাও ওদের সঙ্গে কথা বলতে চাই না।’
আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ‘মধ্যপন্থী’ সিরীয় বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করেন বাশার।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন