আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে ৫ কিলোমিটার আকাশ ঢাকল কালো ছাইয়ে

বিজ্ঞাপন
default-image

ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি মাউন্ট সিনাবাং ভয়ংকরভাবে জেগে উঠেছে। ধোঁয়ায় অন্ধকার নেমে এসেছে আশপাশের এলাকায়। আকাশে অনেক দূর পর্যন্ত উঠে যায় ধোঁয়া। চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে ছাই।

পৃথিবীর বুকে জেগে থাকা আগ্নেয়গিরি জেগে ওঠে মাঝেমধ্যই। এর আগেও বিভিন্ন দেশের ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি জেগে ওঠার খরব মেলে হরহামেশাই। আর এর ফলে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ছাই এবং কালো ধোঁয়া। কিন্তু মাউন্ট সিনাবাং আগ্নেয়গিরি জেগে ওঠার ফলে ছাই ছড়িয়ে পড়েছে অনেক দূর পর্যন্ত। স্থানীয় এলাকাগুলো ঢেকে গিয়েছে কালো ধোঁয়ায়। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে আকাশ।

default-image

সুমাত্রা দ্বীপের এ আগ্নেয়গিরি ২০১০ সাল থেকে জেগে ওঠে। তবে মাউন্ট সিনাবাংয়ের সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ দেখা গেছে ২০১৬ সালে। আবার সম্প্রতি সেই রূপের দেখা মিলছে। গত সপ্তাহেও দুবার ছোট দুটি অগ্ন্যুত্‍‌পাতের ঘটনা ঘটে। আর গতকাল সোমবার সকাল থেকে ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে মাউন্ট সিনাবাংয়ের অগ্ন্যুৎপাত। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কর্তৃপক্ষ স্থানীয় ব্যক্তিদের সতর্ক করে বলেছে, আরও অগ্ন্যুপাতের আশঙ্কা রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার ভলক্যানোলজি অ্যান্ড জিওগ্রাফিক্যাল হ্যাজার্ড মিটিগেশন সেন্টারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সবার জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হচ্ছে। সিনাবাংয়ের কাছে রেড জোন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগ্নেয়গিরির পাশে আগেই নো-গো জোন ঘোষণা করা হয়েছিল। সেখানে এখন কেউ বসবাস করে না। তবে কাছেই বসবাসকারী ছোট উপজাতি সম্প্রদায়ের গ্রাম নামান তেরান অগ্ন্যুত্‍‌‌পাতের কারণে ছাইয়ের আস্তরণে ঢেকে গেছে।

default-image

নামান তেরান গ্রামের রেনকানা সিতেপু জানিয়েছেন, ব্যাপারটি অনেকটা ম্যাজিকের মতো হলো। ছাই ভেসে মুহূর্তের মধ্যে যেন রাত নেমে এল আমাদের এলাকায়। প্রায় ২০ মিনিট সম্পূর্ণ অন্ধকার ছিল আমাদের গ্রাম। ফলে বেশ কিছু ফসলও নষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি।

৪০০ বছরে প্রথমবার ২০১০ সালে জেগে ওঠে সিনাবাং আগ্নেয়গিরি। এরপর ২০১৩ সালে আবার জেগে ওঠে। মাউন্ট সিনাবাংয়ের ভয়ংকর রূপ দেখা গেছে ২০১৬ সালে। এরপর থেকেই এটি সক্রিয়। ২০১৬ সালে অগ্ন্যুত্‍‌পাতের কারনে ৭ জনের মৃত্যু হয়। তথ্যসূত্র: এএফপি

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন