বিজ্ঞাপন

দুই দেশের সংবাদমাধ্যম পরোক্ষে দেনদরবার চলতে থাকার ইঙ্গিত দিলেও আদৌ বৈঠক হবে কি না, সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়নহাপ বার্তা সংস্থা প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ব্লু হাউসের উদ্ধৃতি দিয়ে আজ সোমবার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মুন চলতি সপ্তাহে জাপান সফরে যাবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। খবরে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা চলমান থাকলেও শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা নিশ্চিত নয়।

অন্যদিকে জাপানের প্রভাবশালী দৈনিক ইওমিউরি শিম্বুনের জাপানি সংস্করণে প্রকাশিত খবরে আজ বলা হয়েছে, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার প্রধানমন্ত্রী সুগা ও প্রেসিডেন্ট মুনের মধ্যে প্রথম মুখোমুখি বৈঠক আয়োজন করা নিয়ে সম্মত হয়েছে। চলতি মাসের ২৩ তারিখে টোকিওর আকাসাকা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলেও ইওমিউরি ইঙ্গিত দেয়। তবে এর অল্প কিছু সময় পরে উভয় দেশের সরকারের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স খবর দিয়েছে যে শীর্ষ বৈঠক ঠিক হয়ে যাওয়ার খবরের সত্যতা দুই দেশের সরকারই অস্বীকার করেছে। ফলে প্রত্যাশিত সেই বৈঠক আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা এখন দেখা দিয়েছে।

আগেই যেমন বলা হয়েছে, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া কঠোর ভাষায় একে অন্যের সমালোচনা করে গেলেও লোকচক্ষুর আড়ালে দুই দেশই শীর্ষ নেতাদের মধ্যে শীর্ষ বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল।

বিশ্বনেতাদের অনেকেই করোনাভাইরাস চলতে থাকা অবস্থায় অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নিজেদের অপারগতার কথা টোকিওকে জানিয়ে দিয়েছেন। একমাত্র ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট অলিম্পিকের উদ্বোধনীতে উপস্থিত থাকবেন। তিনি অবশ্য ২০২৪ সালের অলিম্পিকের স্বাগতিক শহর প্যারিসের পক্ষ থেকে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। থাকছেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

ফলে অলিম্পিকের উদ্বোধনীতে বিশ্বনেতাদের আকালের এই সময়ে মুন জে–ইনকে অলিম্পিক উপলক্ষে টোকিও নিয়ে আসা জাপানের জন্য ছিল কাঙ্ক্ষিত একটি লক্ষ্য।
অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া চাইছিল পরিকল্পিত সেই সফরের সুযোগ গ্রহণ করে জাপানের কাছ থেকে অমীমাংসিত কিছু বিষয়ে ছাড় আদায় করে নিতে। তবে পরোক্ষে অগ্রগতি চিহ্নিত হতে থাকা অবস্থায় সিউলে জাপানি দূতাবাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কূটনীতিক কিছুদিন আগে আপত্তিকর এক মন্তব্য করে বসায় অগ্রগতির অনেকটাই এখন ভন্ডুল হওয়ার পথে রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় জাপানি দূতাবাসের উপমিশন প্রধান হিরোশি সোমা গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার এক টেলিভিশন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রেসিডেন্ট মুনের চালানো কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অনেকটাই হচ্ছে একতরফা। তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া যতটা মনে করছে, দুই দেশের সম্পর্কে নিয়ে সেভাবে খুব বেশি চিন্তা করে দেখার সময় জাপানের নেই।

সোমার এই মন্তব্যের পর থেকেই হাওয়া উল্টো দিকে বইতে শুরু করে। এ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার জনমত দ্রুতই মুনের পরিকল্পিত জাপান সফরের বিরোধিতা করতে শুরু করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য গত শনিবার দক্ষিণ কোরিয়ায় জাপানের রাষ্ট্রদূত কোইচি আওশিবাকে তলব করে মিশন উপপ্রধানের কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত অশ্লীল মন্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং এর ব্যাখ্যা দাবি করেছে।

এদিকে জাপান সরকারও বিষয়টি নিয়ে বিব্রত। জাপানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে যে সরকার সোমাকে দেশে ডেকে পাঠিয়ে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। জাপান সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র, চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি কাৎসুনোবু কাতো আজ নিয়মিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, একজন কূটনীতিক হিসেবে সোমার সে রকম মন্তব্য করা একেবারেই ঠিক হয়নি এবং তিনি মনে করছেন, এটা খুবই দুঃখজনক। কাতো আরও উল্লেখ করেন যে দুই দেশের নেতাদের মধ্যে শীর্ষ বৈঠক নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি, তবে মুন জাপান সফরে আসতে চাইলে সরকার সেটাকে স্বাগত জানাবে।

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ভবন ব্লু হাউস জানিয়েছে যে দুই দেশ আলোচনা চালিয়ে গেলেও মুনের সফরের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। আলোচনা অব্যাহত থাকা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সফরের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি ভন্ডুল হয়ে যায়নি। আগামী শুক্রবার অলিম্পিক শুরু হওয়ার আগে গ্রহণযোগ্য একটি সমাধান সম্ভবত উভয় পক্ষ খুঁজে বের করবে এবং তা করা গেলে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগার সঙ্গে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি বৈঠকে বসবেন।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন