বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বৈঠক প্রসঙ্গে আফগানিস্তানের নতুন সরকারের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি বলেন, তাঁরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতে চান। বিশেষ কোনো দেশকে আনুকূল্য প্রদান ও কোনো দেশের সঙ্গে বৈরিতার সম্পর্কে জড়ানোর নীতি গ্রহণ করবেন না তাঁরা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুত্তাকিকে উদ্ধৃত করে ভয়েস অব আমেরিকা জানায়, সমতার ভিত্তিতে পরস্পরের মধ্যে ভালো ইতিবাচক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। আফগানিস্তান বর্তমানে যে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে বিদেশে দেশটির আটকে পড়া অর্থ ছাড় করা বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয় আলোচনায়।

মুত্তাকি বলেন, ‘আমরা (আফগানিস্তানকে) স্পষ্ট করে বলে দিয়েছি যে অস্থিতিশীল আফগানিস্তান থেকে কেউ লাভবান হবে না। তাই আফগানিস্তানের বর্তমান সরকারকে দুর্বল করা বা আমাদের জনগণ যারা এরই মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে সংগ্রাম চালাচ্ছেন, তাদের সমস্যা বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করা উচিত হবে না কারও।’

সম্প্রতি আফগানিস্তানের নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দেশটিকে তার দেওয়া অর্থসহায়তা স্থগিত করেছে।

আফগানিস্তানের টোলো নিউজ বলেছে, সম্প্রতি আইএমএফ তার সদস্যদেশগুলোর জন্য ৬৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে। কিন্তু আফগানিস্তানকে এই তহবিল থেকে অর্থ খরচের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের মুখপাত্র গ্যারি রাইস বলেন, আফগানিস্তানে সরকার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার কারণে দেশটিকে এই তহবিল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না।

এদিকে সিনহুয়া জানায়, বৈঠকে তালেবান প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তানের আকাশসীমার সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ জানিয়েছে। সেই সঙ্গে আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করা ও ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সই হওয়া দোহা চুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়ন করার ওপরেও জোর দেওয়া হয় বৈঠকে।

মুত্তাকি জানান, আফগানিস্তানের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে তালেবান প্রতিনিধিরা আগামী দিনগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

সন্ত্রাসী হামলা স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ আফগানিস্তানের জন্য গুরুতর বাধা: ইইউ
এএনআই জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, সব আফগান নাগরিক নিজেদের নিরাপদ বোধ করেন, এমন একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ আফগানিস্তানের জন্য দেশটিতে অব্যাহতভাবে চলা সন্ত্রাসী হামলা এক গুরুতর প্রতিবন্ধকতা।

গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় আফগানিস্তানের কুন্দুজ প্রদেশের একটি শিয়া মসজিদে বোমা বিস্ফোরণে দেড় শতাধিক মুসল্লি হতাহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসের খোরাসান শাখা (আইএসকেপি) এ হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর আগে তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটির বিভিন্ন স্থানে আরও কিছু হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এমন একটি অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ইইউর এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) মুখপাত্র পিটার স্ট্যানো বলেছেন, ‘হামলায় হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সেই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ ও দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে এই জোট।’

মুখপাত্র স্ট্যানো জোর দিয়ে বলেন, আইএসকেপিকে বিচারের কাঠগড়ায় আনতে হবে এবং সব আফগান নাগরিকের অধিকারের প্রতি অবশ্যই সম্মান দেখাতে হবে।
শনিবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কুন্দুজে বোমা হামলার ঘটনায় কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন