বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সম্মেলনের উদ্বোধনী দিন গতকাল রোববার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি বলেন, ‘আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক মন্দার বিপদ আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। এই মন্দার ফলে দেশটিতে ক্ষুধা ব্যাপক আকার ধারণ করবে, উদ্বাস্তুদের ঢল নামবে ও চরমপন্থার উত্থান ঘটবে।’ তিনি তাঁর বক্তব্যে আফগানিস্তানে মানবিক বিপর্যয় এড়ানোর পথ খুঁজে বের করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

সম্মেলনে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোল্লা আমির খান মুত্তাকিও অংশ নিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিরাও এ সম্মেলনে উপস্থিত আছেন।

এএফপি জানায়, গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানে পশ্চিমা–সমর্থিত আশরাফ গনি সরকারের পতন ও তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর এখন পর্যন্ত আফগান ইস্যুতে এটিই সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলন। সম্মেলন থেকে আফগানিস্তানে আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘোষণা আসতে পারে।

তালেবান সরকারকে স্বীকৃতিদানের ক্ষেত্রে আফগানিস্তানের মানবাধিকার ইস্যুকে পশ্চিমা আদর্শের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। সব দেশ আলাদা। প্রতিটি সমাজে মানবাধিকারের সংজ্ঞাও আলাদা।
ইমরান খান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সম্মেলনে ওআইসি নেতাদের আফগানিস্তানকে সাহায্য করার জন্য একটি ছয় দফা পরিকল্পনা

বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যা দেশটির ওপর থেকে নানামুখী চাপ কমাতে কার্যকর হতে পারে।

আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দেশটিতে সব রকমের আর্থিক সহায়তা ও অনুদান স্থগিত রেখেছে। এরই মধ্যে দেশটিতে শীত বাড়ছে। এতে এক দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন আফগানবাসী। জাতিসংঘ বারবার সতর্ক করে বলছে, আফগানিস্তানে খাদ্য, জ্বালানি ও নগদ অর্থের সংকট চলছে। দেশটি মানবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে।

এদিকে গতকালই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তালেবান সরকারকে স্বীকৃতিদানের ক্ষেত্রে আফগানিস্তানের মানবাধিকার ইস্যুকে পশ্চিমা আদর্শের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার বিষয়ে সতর্ক থাকতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সব দেশ আলাদা। প্রতিটি সমাজে মানবাধিকারের সংজ্ঞাও আলাদা।’

খবরে বলা হয়, সম্মেলনের উদ্বোধনী দিন প্রায় সব বক্তা আফগানিস্তানে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা এবং নারীদের কাজ ও শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। সম্মেলন থেকে তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

আফগানিস্তানে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার চায় ভারত

কাবুলে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকারের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে ভারত। একই সঙ্গে দেশটির পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের সাধারণ জনগণকে সাহায্য করার উপায় খুঁজে বের করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গতকাল দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত-মধ্য এশিয়া সংলাপে অংশ নিয়ে এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আফগানিস্তানে নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ভারতের আয়োজনে সংলাপে কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নিয়েছেন।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন