বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্ট বাইডেন–ঘোষিত সময়সীমা অনুযায়ী, আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। এ ঘোষণা অনুযায়ী, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কাজ জোরেশোরে এগিয়ে চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে সহায়তা করে এখন ঝুঁকিতে আছেন বলে বিবেচিত দেশটির দোভাষীসহ অন্যদের নিরাপত্তার স্বার্থে সরিয়ে নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক বাহিনী তাদের সেনাদের প্রত্যাহারের কাজ জোরদার করার পর থেকেই তালেবান একের পর এক এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচ্ছে। সবশেষ তারা আফগানিস্তানের পাকিস্তান সীমান্তে কৌশলগত এক গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং দখল করেছে। দখলের পর তারা সেখানে তালেবানের পতাকা উড়িয়ে দিয়েছে। বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবান ফের আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আফগানিস্তান থেকে দেশটির যেসব নাগরিককে সরিয়ে নেওয়া হবে, তাঁদের সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জেন সাকি বলেন, এই লোকগুলো সাহসী। বছরের পর বছর ধরে তাঁরা যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা স্বীকার ও মূল্যায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন আফগানকে সরিয়ে নেওয়া হবে। তাঁদের যুক্তরাষ্ট্র বা তৃতীয় কোনো দেশে সামরিক স্থাপনায় রাখা হবে। তাঁদের ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘স্পেশাল ইমিগ্রান্ট ভিসাস’ (এসআইভি) কার্যক্রমের আওতায় ওই আফগান নাগরিকেরা আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।

আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীকে সহায়তাকারী দেশটির দোভাষীসহ অন্য অনেক ব্যক্তি আশঙ্কা করছেন, তাঁরা নিজ দেশে তালেবানের প্রতিহিংসার শিকার হবেন।

আফগানিস্তান থেকে বাইডেনের সব সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ। তিনি বলেছেন, এ সিদ্ধান্তের কারণে দেশটির বেসামরিক লোকজনকে তালেবানের ‘হত্যাকাণ্ডের’ মুখে পড়তে হবে।

২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর আফগানিস্তানে কথিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান শুরু করে বুশ প্রশাসন। তাদের সেই আগ্রাসনে যোগ দেয় ন্যাটো দেশগুলো। অভিযানে তালেবান সরকারের পতন ঘটে। তবে গত ২০ বছরেও দেশটিতে শান্তি ফেরেনি। অবসান হয়নি দ্বন্দ্ব-সংঘাত, সহিংসতার। এমন অবস্থায় বিদেশি সেনারা আফগানিস্তান ছাড়ছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন