default-image

আরব বসন্তের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অনেক শাসকের উৎখাত হয়েছে। যেসব ঘটনা ২০১১ সালের আরব বসন্তকে উসকে দিয়েছিল, সেখানে তা এখনো বহাল। কোথাও কোথাও আরও গভীর হয়েছে। এরই মধ্যে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরাক, লেবানন ও মিসরে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছে। ইরাকের চলতি মাসে শুরু হওয়া বিক্ষোভে ২৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। প্রায় দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে লেবাননে সরকারের পতন ঘটেছে গত মঙ্গলবার। আর মিসরে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রেসিডেন্ট আবদুল ফাত্তাহ আল–সিসির পুলিশি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জনতার বিক্ষোভ নস্যাৎ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ইরাক, লেবানন ও মিসরের মধ্যে ভিন্নতা প্রচুর। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিরোধীদের ক্ষোভের চিত্র অভিন্ন এবং তাতে লাখ লাখ লোকের অংশগ্রহণ ঘটেছে, বিশেষ করে তরুণেরা। মোটামুটিভাবে ধারণা করা হয়, এ অঞ্চলের জনসংখ্যার ৬০ শতাংশের বয়স ৩০ বছরের নিচে। তরুণ জনগোষ্ঠী যেকোনো একটি দেশের জন্য বিশাল জনসম্পদ। তবে তা কেবল তখনই, যখন দেশের অর্থনীতি, শিক্ষাব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো তরুণদের প্রয়োজন পূরণে কার্যকর থাকে। লেবানন, ইরাক এবং এ অঞ্চলের অন্য কোনো দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রায়ই গ্রাস করছে হতাশা, যা সহজেই পাল্টে রূপ নেয় ক্ষোভে।

গত মাসে সিসির সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করে মিসরের জনগণ। ইরাক ও লেবানন—দুই দেশেই বিক্ষোভরত ব্যক্তিরা কেবল সরকারের পদত্যাগের দাবিই তোলেননি। তাঁরা সমগ্র প্রশাসনব্যবস্থারই সংস্কার বা পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন।

ইরাকের প্রেক্ষাপটে মর্মান্তিক এক বাস্তবতা হলো, সমাজে সহিংসতা দৃঢ়ভাবে জেঁকে বসেছে। যখন বিক্ষোভকারীরা বেকারত্ব, দুর্নীতি ও সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন, রাজপথ দখল করে বিক্ষোভ দেখান, তা খুব একটা স্থায়িত্ব পায় না। কারণ, তাঁদের বিরুদ্ধে সরাসরি গুলি চালানো হয়।

ইরাকের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের এখনো পর্যন্ত নেতৃত্বহীন অবস্থায় দেখা গেছে। কিন্তু সরকারের মধ্যে আশঙ্কা হলো, সময় যত গড়াচ্ছে এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে, বিক্ষোভকারীরা আরও বেশি সুসংগঠিত হয়ে উঠবেন। 

লেবানন সরকার তামাক, পেট্রল ও হোয়াটসঅ্যাপ কলের ওপর কর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ায় ১৭ অক্টোবর দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। নতুন এসব কর দ্রুত প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। 

আরব বসন্ত শুরু হয়েছিল তিউনিসিয়ায়। ২০১০ সালের ১৭ ডিসেম্বর নিজের গায়ে আগুন দিয়ে বিপ্লবের মশাল জ্বেলে দেন তিউনিসিয়ার এক নাগরিক। ঘুষ, দুর্নীতি, বেকারত্ব, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তা ছিল এক জ্বলন্ত বিদ্রোহ। এই বিদ্রোহের আগুন আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এসব দেশ হচ্ছে তিউনিসিয়া, মিসর, লিবিয়া, ইয়েমেন, বাহরাইন ও সিরিয়া।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0