সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে আগুনে পুড়ে ১০ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি হতে পারেন বলে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন ইউএনবিকে জানিয়েছেন।
আরব আমিরাত প্রবাসী সাংবাদিক আবদুল মান্নান দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ওই ভবনের কয়েকজন বাংলাদেশির বরাত দিয়ে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেছেন, ১০ জনের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি ও তিন জন ভারতীয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরব আমিরাতের বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মোকসেদ আলী প্রথম আলো কে বলেন, ‘তিনজন বাংলাদেশি নিখোঁজ রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। কাজেই আমরা ধারনা করছি নিহতদের মধ্যে তারা থাকতে পারেন। তবে এখনো আমরা নিশ্চিত নই।’
মোকসেদ আলী বলেন, ‘আগুনে মোট দশজন নিহত হয়েছেন। কিন্তু তাদের সবার শরীর পুড়ে বিকৃত হয়ে গেছে। কাজেই কাউকে চেনা যাচ্ছে না। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আমরা সুনির্দিস্টভাবে কিছু বলতে পারছি না।’
প্রবাসী বাংলাদেশিরা বলছেন, শুক্রবার স্থানীয় সময় ভোর তিনটার দিকে আগুনের এই ঘটনা ঘটে।
আরব আমিরাত প্রবাসী সাংবাদিক আবদুল মান্নান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, আবুধাবির কাছেই শিল্পনগরী মোসাফাহ এলাকার দোতালা ওই ভবনের নিচতলায় একটি টায়ারের দোকান ছিল। আর ওপরের ১১টি ঘরে প্রবাসী শ্রমিকেরা থাকতেন। এর মধ্যে একটি ঘরে কয়েকজন ভারতীয় থাকলেও বাকি ঘরে ৭০ থেকে ৮০ জন বাংলাদেশি থাকতেন।
ওই ভবনের বাসিন্দা চট্টগ্রামের ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ আজম ও জাকির হোসেনকে উদ্ধৃত করে আবদুল মান্নান জানান, ভোরের দিকে আগুন লাগলে বেশিরভাগ বাংলাদেশি জানালা ভেঙে বের হন। তবে অন্তত দশজন বের হতে পারেননি। সকালে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশ বের করে। কিন্তু তাদের শরীর পুড়ে এতোটাই বিকৃত হয়ে গিয়েছিলো যে চেনা যাচ্ছিল না। তবে নিহতদের মধ্যে তিনজন ভারতীয় এবং বাকি সাতজন বাংলাদেশের বলে প্রাথমিকভাবে তারা ধারনা করছেন।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে আরব আমিরাতের বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মোসাফাহ এলাকার একটি টায়ারের দোকানে আগুন লেগেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। এতে দশজন নিহত হয়েছেন।’
নিহতদের মধ্যে কতোজন বাংলাদেশি জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুড়ে যাওয়ায় চেহারা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। কাজেই আমরা এখনো নিশ্চিত নই কতজন বাংলাদেশি। দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আছেন। আমরা পরিচয় জানার চেষ্টা করছি।’
একইরকম কথা বলেছেন ঢাকার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব খন্দকার ইফতেখার হায়দার। তিনি বলেন, ‘আমরা খোঁজখবর রাখছি। তবে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা কঠিন।’

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন