বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জেনারেল নাইং, আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চাওয়ার জন্য ধন্যবাদ...

জেনারেল নাইং: আমি ইংরেজিতে ভিন্ন ভাষী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সতর্ক হয়ে পড়ি। আমাদের পরিস্থিতি খুব জটিল। আমাদের কাজের কৌশলও খুব জটিল। ইংরেজি আমাদের ভাষা নয়। ওই ভাষায় বাইরের দেশের মানুষের কাছে সহজে আমাদের বক্তব্য প্রকাশ সহজ নয়, বিপদও আছে। এমনকি আমরা অনেক কৌশলগত বিষয় বাইরে তুলে ধরতেও চাই না, যদি না তা থেকে কৌশলগত কোনো লাভ তৈরি হয়। আপনাদের সঙ্গে কথা বলার ব্যাপারেও দ্বিতীয়বার ভেবেছি। আপনারা হয়তো আমাকে রোহিঙ্গাদের বিষয়েও জিজ্ঞাসা করবেন। আমরা তাঁদের ‘রাখাইনের মুসলমান অধিবাসী’ বলি। আপনারা আমাদের প্রতিবেশী। বাংলাদেশে আমি কোনো ভুল–বোঝাবুঝির জন্ম দিতে চাই না।

আরাকানের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইছি। আরকান আর্মি কী করছে সেখানে? পুরো পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে?

জেনারেল নাইং: আমরা এ মুহূর্তে বার্মার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিতে আছি। যুদ্ধবিরতির আগে পরিস্থিতি খুবই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। দু-তিন ব্যাটালিয়ন ছাড়া তারা কোনো এলাকায় যেতে পারছিল না। আমাদের উপস্থিতি ও প্রতিরোধের মাত্রাটা এ থেকে বুঝতে পারবেন। এখন যে যুদ্ধবিরতি চলছে, সেটা সাময়িক। উভয় পক্ষে মাঝে কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক বা চুক্তি হয়নি। মাঝেমধ্যে কিছু ভার্চ্যুয়াল বৈঠক হয়। তারা আমাদের প্রশাসন ও বিচারকাজ নিয়ে আপত্তি তোলে।
রাখাইনে একধরনের প্রশাসন পরিচালনা করছি আমরা। আমাদের বিচারব্যবস্থা গড়ে উঠছে সেখানে। আমরা কর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করছি। বার্মায় এটা নতুন নয়। যেসব জাতিসত্তা সশস্ত্র আন্দোলনে আছে, প্রায় সবাই নিজস্ব প্রশাসন পরিচালনা করে যার যার এলাকায়। এ মুহূর্ত যুদ্ধ বন্ধ থাকায় আমরা মূল মনোযোগ দিচ্ছি দখল করা এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার কাজে।

উত্তর ও দক্ষিণ আরাকানে আপনাদের নিয়ন্ত্রণে হেরফের আছে?

জেনারেল নাইং: আমরা মূলত আরাকানের টাউনশিপগুলোতে আছি, টাউনে নয়। সেখানেও ঢুকতে পারি আমরা। সে রকম যথেষ্ট শক্তি আছে আমাদের। কিন্তু তাতে ক্ষয়ক্ষতি হবে। বার্মার মিলিটারি খুবই নির্মম। তাদের আমরা কম সুযোগ দিতে চাই।

২০২০-এ আপনি একবার বলেছিলেন, আরাকান আর্মির একটা স্বপ্ন, অলিম্পিকে আপনাদের পতাকা ও জাতীয় সংগীত দেখতে ও শুনতে চান। এর মানে কি এই দাঁড়ায়, আপনারা স্বাধীন আরাকানের জন্য লড়ছেন?

জেনারেল নাইং: আমরা স্বাধীনতা ঘোষণা করিনি। তবে পরোক্ষভাবে আমরা রাখাইন জনগণকে আমাদের রাজনৈতিক লক্ষ্যের কথা বলি। আমরা আসলে বাইরের স্বীকৃতির চেয়ে অভ্যন্তরীণ সার্বভৌমত্বের জন্য লড়ছি। আমরা এ মুহূর্তের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে বিবেচনায় রাখছি। ১৯৭১-এ বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছিল। ভারতসহ অনেক দেশ তাকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। এখন এ অঞ্চলে পরিস্থিতি আলাদা। আশপাশের শক্তিশালী দেশগুলো কেউ চাইছে না এ অঞ্চলে নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হোক। এ রকম রাষ্ট্র বেরিয়ে এলে শক্তিশালী দেশগুলোর ভয় হলো তাদের ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’রা উৎসাহিত হবে।

তার মানে আপনারা মূলত স্বায়ত্তশাসন চাইছেন?

জেনারেল নাইং: চূড়ান্তভাবে আমরা স্বাধীনতা চাই বটে, কিন্তু সেটার জন্য অনেক পদক্ষেপ ফেলতে হবে। সেটা সময়সাপেক্ষ।

আপনাদের ২০ হাজার ক্যাডার রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন ২০২০ সালে। এ–ও বলেছিলেন, এটা ৭০ হাজারে নিতে চান আপনারা। কবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাচ্ছেন?

জেনারেল নাইং: আমাদের আসলে এখন ৩০ হাজারের মতো সৈনিক আছে। সামরিক সরঞ্জাম জোগাড় সহজ নয়। অনেক দুরূহ। আপনার যখন একটা রাজনৈতিক লক্ষ্য থাকে, তখন সেই অনুযায়ী বাকি সব সম্ভব করতে হয়। আমাদের আপাতত ৩০ থেকে ৫০ হাজার সৈনিক দরকার, পূর্বপুরুষের ভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য। জনগণের মধ্যে আগ্রহও আছে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য। পরিস্থিতি আমাদের অনুকূল—এটাই কেবল বলতে পারি। কবে লক্ষ্যে পৌঁছাব, সেটা ঠিক করে বলা কঠিন।

আপনি বলছেন আরাকান আর্মি প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এতে তো মনে হচ্ছে আপনারা রাজনৈতিক লক্ষ্যে বেশ এগিয়েছেন। আবার এ–ও বলছেন, পুরো আরাকানে আপনারা নেই। তাহলে বিচারব্যবস্থা কোথায়—কীভাবে পরিচালনা করছেন?

জেনারেল নাইং: আমাদের নিজস্ব পুলিশ বাহিনী রয়েছে। জনতার মাঝে গ্রহণযোগ্যতা থাকলে বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, তাদের বিরোধকে ন্যায়ানুগ পথে সমাধান করতে হবে—এটাই আমাদের অভিজ্ঞতা।

আরাকান আর্মি কেন্দ্রীয় মিয়ানমারের অভ্যুত্থানবিরোধী গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে অনুপস্থিত কেন? এ ক্ষেত্রে ঠিক কী কৌশল নিয়েছেন?

জেনারেল নাইং: আমাদের মূল লক্ষ্য ‘রাখিতা’—হারানো সার্বভৌমত্ব ফিরে পাওয়া। আরাকানের আগের প্রজন্ম বার্মিজদের অনুসরণ ও সহযোগিতা করতে গিয়ে অনেক সময় অপচয় করেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে আরাকানের রাজনীতিবিদেরা জেনারেল অং সানসহ বার্মিজদের সঙ্গে কাজ করেছেন সহযোগিতামূলকভাবে। কিন্তু আরাকান তার সমতামূলক রাজনৈতিক হিস্যা পায়নি। ১৯৮৮ সালের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনেও আরাকান সম্পৃক্ত ছিল, কিন্তু লাভবান হয়নি। সেসব অভিজ্ঞতা থেকে আমরা আর বার্মিজদের অনুসরণ করতে চাই না। আমরা বরং নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে চাই। আমরা যে বার্মার চলতি গণতান্ত্রিক সংগ্রামে কিছুটা দূরে রয়েছি, সেটা আমাদের কৌশলগত অবস্থান। আবার আমরা সরাসরি অংশ না নিলেও আমাদের অনেক সহযোগী সংগঠন ওই আন্দোলনে আছে। তবে আমি বলব, আমরা একটা স্মার্ট অবস্থান নিয়েছি। ফলে পুরো বার্মায় অরাজকতা চললেও আরাকান তুলনামূলকভাবে শান্ত।

আমরা এবার ভিন্ন প্রসঙ্গে যেতে চাই। আরাকান আর্মি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কী ভাবে?

জেনারেল নাইং: আমরা রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার স্বীকার করি। তবে কেবল কয়েকটি কথায় এ রকম সমস্যার উত্তর দেওয়া মুশকিল। এটা এত বড় সমস্যা যে স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশও একা সমাধান করতে পারবে না। আমাদের জন্যও এটা বড় ইস্যু। বাংলাদেশের সঙ্গে এ বিষয়ে আমরা কাজ করতে আগ্রহী।

# আমাদের এখন ৩০ হাজারের মতো সৈনিক আছে।
# বাংলাদেশের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে বিরক্ত করতে ইচ্ছুক নই। দেশটির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়তে চাই।
# আমরা রোহিঙ্গাদের ‘রাখাইনের মুসলমান অধিবাসী’ বলি।
# আশপাশের শক্তিশালী দেশগুলো কেউ চাইছে না এ অঞ্চলে নতুন রাষ্ট্রের জন্ম হোক।

এ সমস্যার সমাধানে সময় দরকার। বিশেষ করে রোহিঙ্গা জনগণের ‘রোহিঙ্গা’ হিসেবে পরিচয় নিয়ে পাল্টাপাল্টি যুক্তি রয়েছে। কোন জনগোষ্ঠী নিজেদের কীভাবে পরিচিত করবে, সেটা অবশ্যই মানবাধিকারের একটা মৌলিক প্রশ্ন। মানবাধিকারের মৌলিক দিকগুলোতে আমাদের অঙ্গীকার রয়েছে। আবার একই জায়গার অন্য জনগোষ্ঠীর মতামতও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৫০-এর আগে ‘রোহিঙ্গা আইডেনটিটি’র কথা বিশেষ শোনা যায়নি। এটা যখন শোনা গেল—তার পেছনে একটা ইতিহাসও তুলে ধরা হলো। এখানে আরবের ইতিহাস আনা হলো। রাখাইনরা তখন ভাবল তাহলে আমাদের পূর্বপুরুষের ইতিহাস কোথায়? এমনিতে আরাকানরা সব হারিয়ে ফেলেছে বার্মিজ প্রতিপক্ষের কাছে। শুধু ইতিহাসটুকু ছাড়া। ফলে তারাও ইতিহাসকে আঁকড়ে ধরে আছে প্রবলভাবে। রাখাইনদের মাঝে জাতীয়তাবাদী প্রবণতা আছে প্রবল। বিশ্বযুদ্ধের পর এভাবে আরাকানে প্রধান দুই জনগোষ্ঠীর মাঝে বিভেদ বেড়ে যায়। রাজনৈতিক কারণেই এসব ঘটে। এখন আরাকান আর্মির দিক থেকে অবস্থান হলো, যেহেতু আমরা একক প্রতিপক্ষ হিসেবে বার্মিজদের বিরুদ্ধে, সে কারণে আরাকানে সবাইকে একসঙ্গে রাখতে চাই আমরা। এ সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ বড় এক পক্ষ।

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান ভাবনা নিয়ে আপনাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো যোগাযোগ ঘটেছে কখনো?

জেনারেল নাইং: আমরা চেষ্টা করেছি নানান সময়। প্রত্যাশিত সাড়া পেয়েছি বলতে পারব না। আমার দিক থেকে সিদ্ধান্ত রয়েছে, বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ–আলোচনার। আমরা যথাযথ সাড়ার অপেক্ষা করছি।
প্রশ্ন: সম্প্রতি আমরা দেখেছি, মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় পুনর্বাসনমন্ত্রী রাখাইন গেছেন। রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন বিষয়েও কথা হয়েছে বলে পত্রপত্রিকায় এসেছে।
জেনারেল নাইং: আমি বলব, এ কাজের জন্য এখনকার পরিস্থিতি সহায়ক নয়। বার্মিজ মিলিটারির কোনো সুস্থির অবস্থান নেই কোনো বিষয়ে। তারা দ্রুত মতামত পরিবর্তন করে। তাদের কি বিশ্বাস করা যায়? রোহিঙ্গাদের ফিরে আসা স্বাগত জানানোর মতো বিষয়। কিন্তু যেকোনো সময় এখানে যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়তে পারে। তাতমাদৌ নিজেও সে অবস্থার প্রস্তুতি ছাড়েনি।

কিন্তু আরাকান তো তুলনামূলকভাবে শান্ত এখন।

জেনারেল নাইং: বার্মার অন্যান্য এলাকার চেয়ে রাখাইন তুলনামূলকভাবে শান্ত, এটা সত্য। কিন্তু শান্তির কোনো নিশ্চয়তা নেই। রোহিঙ্গা সমাজ যদি আসতে চায়, আসুক। আমরা এই প্রত্যাবর্তনের বিরুদ্ধে নই। তাদের দিক থেকে ফিরে আসতে চাওয়াই স্বাভাবিক। কারণ, শরণার্থীশিবিরে তাদের অবস্থা ভালো নয়। কিন্তু ফিরে আসার পর কি তারা ভিন্ন কোনো পরিবেশ পাবে?

রোহিঙ্গাদের কিছু সংগঠনের কথা আমরা শুনি—যেমন আরসা, আরএসও। আরকানা আর্মির সঙ্গে এদের কাজের সম্পর্ক কেমন?

জেনারেল নাইং: আমাদের ওপর অনেক দেশের ব্যাপক চাপ রয়েছে এসব বিষয়ে। কেউ ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত কোনো সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ইচ্ছুক নয়। আমাদের নামও ছিল সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকায়। অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর মাত্র কয়েক মাস আগে বার্মার সরকারের সন্ত্রাসী তালিকা থেকে আমাদের নাম সরানো হলো। ভারত, চীন সবাই আমাদের জিজ্ঞাসা করে, তোমরা আরসাকে সাহায্য করছ কি না। তাদের দিক থেকে সতর্কতা আছে এ বিষয়ে। তবে এটা বলতে পারি, আমাদের সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে মুসলমান জনগোষ্ঠীকে যুক্ত করার চেষ্টা আছে। আমাদের পুলিশ বাহিনীতে এ রকম ঘটেছে। আমরা তাদের নিয়েছি। বিচার ও প্রশাসন বিভাগেও একই উদ্যোগ আছে। তাদের দরকার আমাদের। কারণ, মুসলমানপ্রধান গ্রামগুলোকেও আরাকান আর্মি প্রশাসনিক চৌহদ্দিতে আনতে চায়। তবে গত সপ্তাহে আমাদের প্রশিক্ষণে থাকা একজন মুসলমান অস্ত্রসহ পালিয়ে আরসার দিকে চলে গেছে বলে জানা গেল। ফলে আমাদের পুরো সংগঠনে তাদের বিষয়ে আস্থায় বড় একটা ক্ষত তৈরি হলো।

আরেকটি বিষয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেক উচ্চশিক্ষিত রোহিঙ্গা তরুণ রয়েছে। তারা নিজেদের কথা বলছে। আপনি কি তাদের ব্যাপারে আগ্রহী?

জেনারেল নাইং: আমি এ বিষয়ে খুব বেশি আগ্রহী নই। কারণ, তাদের সম্পৃক্ত করার জন্য আমরা প্রস্তুত নই। তারা যদি আমাদের সাহায্য করতে চায়, সেটা খুব ভালো। তবে আমাদের একটা অভিজ্ঞতা হলো, পশ্চিমে শিক্ষিতরা মাঠের বাস্তবতা বুঝতে পারে কম। মাঠের বিপ্লবী কর্মীদের সঙ্গে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির ফারাক থাকে। পশ্চিমের উচ্চশিক্ষিতরা কেবল প্রশ্ন করতে শিখেছে। মাঠে দাঁড়িয়ে কাজটা করা ভিন্ন বিষয়।

আমরা জানি চীনের সঙ্গে আরাকান আর্মির কিছু বোঝাপড়া আছে। রোহিঙ্গা বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে কি আপনাদের কোনো মতবিনিময় হয়েছে কখনো?

জেনারেল নাইং: চীন একটা বিশাল বিষয়। ইউনানের পাশে আমাদের কাছাকাছি অবস্থান। সেখানে সে দেশের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়—নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে নয়। কখনো কখনো বাংলাদেশের সঙ্গে শরণার্থী সমস্যা নিয়ে তারা জানতে চেয়েছে। এটা তো খুবই সত্য যে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে। এটা আমাদের একটা অগ্রাধিকার।

বাংলাদেশের স্থানীয় কাগজে এমন সংবাদ দেখা গেছে, এখান থেকে কিছু মানুষ শিন প্রদেশের দিকে গেছে বা যায়। এসব এলাকার সঙ্গে আরকান আর্মির কোনো যোগসূত্র আছে কি?

জেনারেল নাইং: সীমান্তে আমাদের দিকে আরাকান আর্মির উপস্থিতি আছে। অপর দিকে অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবহিত। তবে আমরা এ–ও জানি, বাংলাদেশ সরকার কোনোভাবেই চায় না আমরা তাদের সীমান্তের ভেতরকার কোনো বিষয়ে নাক গলাই। আমরা বাংলাদেশ সরকারের চাওয়াকে সম্মান জানাই। আমরা বাংলাদেশের নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে বিরক্ত করতে ইচ্ছুক নই। দেশটির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়তে ইচ্ছুক। বিশেষভাবে চাই বাংলাদেশের মানুষ আমাদের সংগ্রাম সম্পর্কে প্রকৃত সত্য জানুক। আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ভাবুক—সেই সম্পর্ক হতে পারে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক—সব ধরনের।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন