বিজ্ঞাপন

ফিলিস্তিনে পাঁচ দিন ধরে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। গত সোমবার থেকে বিমান হামলা শুরু হয়। এরপর গতকাল শুক্রবার থেকে সেখানে স্থলপথেও হামলা শুরু হয়েছে। স্থলপথে হামলা জন্য ট্যাংক ব্যবহার করা হচ্ছে, ইসরায়েলি সেনারা চালাচ্ছে গুলি।

এমন হামলার একটি চিত্র উঠে এসেছে বিবিসির একটি ভিডিওতে। গণমাধ্যমটির ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গাজা শহর থেকে তাদের সাংবাদিক আদনান এলবুর্শ সরাসরি সম্প্রচারিত খবরে যোগ দিয়েছিলেন। আদনান যখন কথা বলছিলেন, তখন তাঁর পেছনে একটি ভবনে বিমান হামলা চালানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে ধসে যায় বহুতল ভবনটি। এ সময় কয়েকজনকে সেখান থেকে পালাতে দেখা যায়।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে এমন আরও অনেক দৃশ্য ধরা পড়েছে। হাসপাতালের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, রক্তাক্ত-আহত মানুষ কাতরাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে শিশুও। এ কারণে ভয় জেঁকে বসেছে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে। নাজওয়া বলেন, ‘আমাদের চারপাশের সবকিছু কাঁপছে হামলায়। আমরাও কাঁপছি। কারণ, আমরা ভীত।’

বলা যায়, কয়েক দিন ধরে ফিলিস্তিনের আকাশে পাখির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উড়ছে ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফের বক্তব্যেই তা স্পষ্ট। গার্ডিয়ানের খবর, আইডিএফ গতকাল সকালে বিবৃতিতে বলেছে, গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে মাটির নিচের দেড় শ স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে এক রাতে।

প্রতি রাতেই দুই পক্ষ হামলা চালায়। গত বুধবার রাতের চিত্র তুলে ধরে নাজওয়া বলেন, তাঁদের মনে হচ্ছিল পরের বোমাটিই হয়তো তাঁদের ওপর পড়বে। তিনি আরও বলেন, ‘পরের বোমাটি হয়তো আপনার বাসস্থান বদলে দেবে। আপনি যে স্থানটিকে নিরাপদ মনে করছেন, সেখানে আপনার এবং আপনার সন্তানের কবর রচিত হতে পারে।

আপনার স্বপ্ন, আপনার স্মৃতি ও আপনার সবকিছু ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।’
শুধু গাজায় এ পরিস্থিতি, এমনটা নয়। ভয়, আতঙ্ক আর শঙ্কা বিরাজ করছে ইসরায়েলেও। কারণ, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে রকেট হামলা চালাচ্ছে। এ ছাড়া দেশটিতে ইহুদি ও ইসরায়েলি আরবদের (যাঁরা নিজেদের ফিলিস্তিনি হিসেবে পরিচয় দেন) মধ্যে সংঘর্ষ হচ্ছে। এর জের ধরে ইসরায়েল লড শহরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এ শহরে বসবাস করেন তোফা লেভি। লড শহরের ইসরায়েলি আরবদের হামলা প্রত্যক্ষ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ওই হামলাকারীরা তাঁর বাসার খুব কাছে হামলা করেছিল। তারা অনেক কিছুতে অগ্নিসংযোগ করছিল। তিনি বলেন, ‘এটা ছিল স্তম্ভিত হওয়ার মতো ঘটনা। আমি আতঙ্কিত ছিলাম।’

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন