default-image

মিয়ানমারে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে আজ বুধবার আরও বড় বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই বিক্ষোভ দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সহিংসতার আশ্রয় নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

দেশটির গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে চলতি মাসের শুরুতে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। এরপর তারা নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠান কথা বলছে। তাদের দাবি, এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন আছে। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা বলছে, সেনাবাহিনীর এই দাবি মিথ্যা। এটা প্রমাণে বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিরোধীরা।

নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের যে প্রতিশ্রুতি মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর দিয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ-সংশয় প্রকাশ করেছেন বিরোধীরা। গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে এই প্রতিশ্রুতি দেন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাও মিন তুন।

সেনাবাহিনীর এমন প্রতিশ্রুতির মধ্যেই দেশটির স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির বিরুদ্ধে আরেকটি মামলার খবর আসে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থা আইন ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। আগে সু চির বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে ওয়াকিটকি আমদানির অভিযোগে মামলা করা হয়।

১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের দিনই সু চিকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। সু চি এখন কোথায়, কীভাবে আছেন, তা স্পষ্ট নয়। তবে গতকাল দেশটির সেনা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তিনি নিরাপদ স্থানে আছেন। ভালো আছেন।

সু চির বিষয়ে গতকাল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশটির একটি আদালতে শুনানি হয়। আগামী ১ মার্চ পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেছেন আদালত।

বড় বিক্ষোভের ডাক প্রসঙ্গে দেশটির গণতান্ত্রিক আন্দোলনকর্মী খিন সুন্দর ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘চলুন, স্বৈরশাসকদের পতনের জন্য লাখো মানুষ জড়ো হই।’

সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) জ্যেষ্ঠ সদস্য কি টো জনতার উদ্দেশে বলেছেন, ‘চলুন, গণবিক্ষোভ করি। চলুন, সেনা অভ্যুত্থানকারী সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের শক্তি দেখাই, যারা তরুণদের ভবিষ্যৎ, আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছে।’

আজকের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ। তাঁর আশঙ্কা, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আশ্রয় নিতে পারে। এ ব্যাপারে তিনি সতর্ক করেছেন। সম্ভাব্য এই সহিংসতা এড়াতে মিয়ানমারের জেনারেল ও ব্যবসার ওপর প্রভাব রয়েছে, এমন দেশগুলোকে মিয়ানমারের সামরিক কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে তিনি।

বিজ্ঞাপন
default-image

এক বিবৃতিতে বিশেষ দূত টম বলেছেন, মিয়ানমারের জনগণের মৌলিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের ওপর চলমান দমন-পীড়ন অবিলম্বে অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত।

সেনা অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে মিয়ানমারে টানা বিক্ষোভ হচ্ছে। কোনো কোনো দিনের বিক্ষোভে লাখো মানুষেরও সমাগম ঘটতে দেখা গেছে। মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে গতকালও বড় বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভ দমনে শক্তিপ্রয়োগসহ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে দেশটির সামরিক জান্তা। এমনকি বিক্ষোভে গুলিও চালানো হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, বাড়িতে বাড়িতে হানা, গ্রেপ্তার তো আছেই; ইন্টারনেটও বন্ধ রাখছে সামরিক কর্তৃপক্ষ।

মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের কঠোর সমালোচনা করছে পশ্চিমারা। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে মিয়ানমারের সেনাশাসকদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সু চির বিরুদ্ধে নতুন মামলায় ওয়াশিংটন ও লন্ডন আরও ক্ষুব্ধ হয়েছে।

তবে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান প্রশ্নে চীনের অবস্থান নমনীয়। দেশটিতে সেনা অভ্যুত্থান বেইজিং সমর্থন করছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, মিয়ানমারে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত গতকাল তা নাকচ করেছেন।

মিয়ানমারে গত নভেম্বরের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলে সেনাবাহিনী। তারপর তারা পার্লামেন্টের প্রথম অধিবেশন শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ১ ফেব্রুয়ারি ভোরে সামরিক অভ্যুত্থান করে। এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তারা ক্ষমতাচ্যুত করে সু চির নির্বাচিত সরকারকে। মিয়ানমারের ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নেন দেশটির সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং। একই সঙ্গে তারা দেশটির নেত্রী সু চিসহ শীর্ষ নেতাদের আটক করে। এক বছরের জন্য মিয়ানমারে জরুরি অবস্থা জারি করে সেনা কর্তৃপক্ষ।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন