যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের সঙ্গে ভারতও ‘কোয়াড’ অক্ষের অংশীদার। ভারত ছাড়া বাকি তিন দেশই ইউক্রেন প্রশ্নে রাশিয়ার বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ। একমাত্র ভারত নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে চলছে। লাভরভের এই সফরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষাসংক্রান্ত এক প্রস্তাব বিবেচিত হওয়ার কথা।

ভারত ইতিমধ্যেই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সস্তায় রাশিয়া থেকে তেল কেনার চুক্তি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এই সময়ে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করার অর্থ যুদ্ধবাজ রাশিয়াকে সাহায্য করা।

লাভরভের সফরের প্রায় একই সময়ে দিল্লিতে এসে লিজ ট্রাস রাশিয়ার বিরোধিতার জন্য ভারতকে চাপ দেবেন। তিনি কী বলবেন, তার একটা ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই ব্রিটিশ হাইকমিশন থেকে দেওয়া হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় ট্রাস বলবেন, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ বুঝিয়ে দিচ্ছে আগ্রাসন রুখতে ও বিশ্বের নিরাপত্তার স্বার্থে গণতান্ত্রিক দেশগুলোর কতটা জোটবদ্ধ হওয়া জরুরি। ট্রাস ওই বিবৃতিতে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণকে প্ররোচনাহীন বলেছেন।

বস্তুত, ইউক্রেন নিয়ে ভারতের এই মুহূর্তের অবস্থান ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’র মতো।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে চীনের প্রভাব খর্ব ভারতের জন্য যতটা জরুরি, ততটাই প্রয়োজনীয় রাশিয়ার সঙ্গে মিত্রতা বজায় রাখা। বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ঠেকাতে চীন ও রাশিয়ার কাছাকাছি আসাও ভারতের কাছে উদ্বেগজনক। রাশিয়া-ভারত বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। সেই সোভিয়েত আমল থেকে রুশ-ভারত মৈত্রী সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের ভূমিকাও অনন্য। ভারতের প্রতিরক্ষাসম্ভারের ৭০ শতাংশ রাশিয়ানির্ভর।

স্বাভাবিক স্বার্থজনিত কারণেই ভারত এই সংকটে রাশিয়ার সরাসরি বিরোধিতা করতে চায় না। সেই কারণে জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আনা কোনো প্রস্তাবেই ভারত পক্ষ নেয়নি। ভোটদানে বিরত থেকেছে। যুদ্ধ বন্ধ রেখে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মধ্য দিয়ে মীমাংসার কথা বলে আসছে। ভারতের এই মনোভাব মেনে নিতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য গণতান্ত্রিক মিত্রশক্তি। প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিজেই ভারতীয় অবস্থানকে ‘নড়বড়ে’ বলে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ভারতকে চাপ দিয়েছেন জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীরাও। এই পরিস্থিতিতে লাভরভ ও ট্রাসের সফর কূটনীতির সম্ভাব্য গতিপ্রকৃতি ঘিরে আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন