এই ‘হুমকি দেওয়া চিঠির’ বিষয়ে জিও নিউজের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, অনাস্থা প্রস্তাবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা এবং প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ‘হুমকি দিয়ে চিঠি লেখার’ বিষয়টি ভিত্তিহীন।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। পাকিস্তানে আইনের শাসনকে সমর্থন করে তারা। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, পাকিস্তানের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে সম্মান জানায় তারা।

ইমরান খান ওই সমাবেশে বলেছিলেন, বিদেশ থেকে অর্থ ঢালার ‘লিখিত প্রমাণ’ আছে তাঁর হাতে। তিনি আরও বলেন, ‘সরকার উৎখাতে আমাদেরই কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করতে কয়েক মাস ধরে বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

ভারতে নিযুক্ত সাবেক পাকিস্তানি হাইকমিশনার আবদুল বাসিত বলেন, কূটনীতিকদের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের এ ধরনের হুমকি দেওয়ার কথা আগে কখনো শোনা যায়নি। তিনি বলেন, ‘একটি দেশের সরকারকে না সরালে তারা সম্পর্ক ছিন্ন করবে—কূটনীতিকদের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের এমন হুমকির ঘটনা আগে কখনো শোনা যায়নি।’

জিও নিউজের এক অনুষ্ঠানে বাসিত আরও বলেন, পররাষ্ট্রনীতির স্পর্শকাতর বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আলোচনা না করাই ভালো। তিনি আরও বলেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক পাকিস্তানি কূটনীতিকের বৈঠকে নেওয়া নোটের প্রতি হয়তো ইঙ্গিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। চিঠিতে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওই কূটনীতিকের নিজস্ব মূল্যায়নও থাকতে পারে।

অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও ভুল পররাষ্ট্রনীতির অভিযোগ তুলে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেন বিরোধী নেতারা। এরপর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পরিষদের অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়। প্রস্তাবের ওপর বিতর্কের পর আগামী ৩ এপ্রিল ভোটাভুটি হতে পারে।

পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে মোট আসন ৩৪২টি। ইমরানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ১৭২টি ভোটের প্রয়োজন হবে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জিও নিউজের হিসাব অনুযায়ী, বিরোধী জোটের হাতে রয়েছে ১৯৯ ভোট। অন্যদিকে, ইমরান সরকারের রয়েছে ১৪২ ভোট।

পার্লামেন্টে আনা বিরোধীদের অনাস্থা ভোটে পাকিস্তানে এই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী বিদায় নিতে যাচ্ছেন। সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের কারণে পাকিস্তানে এর আগেও কোনো প্রধানমন্ত্রীই তাঁর মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন