বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের শিল্পনগরী শিয়ালকোটে ‘ভয়ংকর’ এ হত্যার ঘটনা ঘটে। সহিংস একদল জনতার পিটুনিতে নিহত ওই ব্যক্তির নাম প্রিয়ান্থা দিয়াওয়াদনা। গুজব ওঠে যে প্রিয়ান্থা ধর্মীয় বাণী লেখা একটি পোস্টার ছিঁড়ে তা ডাস্টবিনে ফেলেছেন। আর তাতে লোকজন উত্তেজিত হয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। শ্রীলঙ্কার এ নাগরিক সাত বছর ধরে শিল্প প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান রাজকো ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইমরান খান ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি পাকিস্তানের জন্য লজ্জার একটি দিন।

একসময় ক্রিকেট ম্যাচে প্রতিপক্ষ হিসেবে একই মাঠে মুখোমুখি হতেন অর্জুনা রানাতুঙ্গা ও ইমরান খান। ক্রিকেট অঙ্গনের সে সম্পর্কের সূত্র ধরে লেখা চিঠিতে দুই দেশের মধ্যকার সৌহার্দ্যের কথা ইমরান খানকে স্মরণ করিয়ে দেন রানাতুঙ্গা। তিনি লিখেছেন, দুই দেশের মধ্যকার বন্ধন সব সময়ই দৃঢ় ও সংহতিপূর্ণ। শ্রীলঙ্কার কঠিন সময়ে পাকিস্তানি সেনারা পাশে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯৬ সালে গৃহযুদ্ধ চলার কারণে দেশটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে যোগ দিতে অনেক দেশই অসম্মতি জানিয়েছিল। তবে তখন পাকিস্তান, ভারতসহ এশিয়ার দেশগুলোকে পাশে পেয়েছে শ্রীলঙ্কা।

ইমরান খানকে ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী শ্রীলঙ্কান এ অধিনায়ক মনে করিয়ে দেন, পাকিস্তানের অব্যাহত সমর্থনের প্রতি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ শ্রীলঙ্কাও পাকিস্তানের বিভিন্ন টুর্নামেন্টগুলোতে অংশ নিয়েছে। যেখানে অন্য অনেক দেশই নিরাপত্তা উদ্বেগ জানিয়ে অংশ নেয়নি।

চিঠিতে প্রিয়ান্থা হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য ইমরান খানের পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন রানাতুঙ্গা। তিনি লিখেছেন, ‘কয়েক দিন ধরে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আপনি (ইমরান) বারবারই বলেছেন, এ ধরনের সহিংস ও আইনবহির্ভূত ঘটনায় কঠোর নিন্দা জানাতে হবে। ক্রিকেটের মাঠই হোক কিংবা রাজনৈতিক ক্ষেত্র—সব জায়গাতেই আপনি অটল থেকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারেন।’

রানাতুঙ্গা আশা প্রকাশ করেন, পথভ্রষ্ট গুটিকয়েক পাকিস্তানি নাগরিককে ইমরান খান একই কায়দায় মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আচরণ শেখাতে পারবেন।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন