default-image

ইরাকে দখলে থাকা সর্বশেষ ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ হারানোর দুই বছর পর আবারও নিজের অস্তিত্বের জানান দিচ্ছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। পুনরায় সংগঠিত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে সংগঠনটি।

কুর্দি ও পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিবিসিকে বলেন, ইরাকে তৎপরতার মধ্য দিয়ে আইএস নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে এবং হামলা দিন দিন বাড়ছে।

কুর্দি সন্ত্রাসবিরোধী শীর্ষ কর্মকর্তা লাহুর তালাবানি বলেন, জঙ্গিরা এখন আগের চেয়ে দক্ষ ও আল-কায়েদার চেয়ে বিপজ্জনক। তাদের কাছে আধুনিক প্রযুক্তি, কৌশল ও আগের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ রয়েছে। যানবাহন, অস্ত্র, খাদ্য সরবরাহ ও যন্ত্রপাতি কেনার সামর্থ্য তাদের রয়েছে। কৌশলগতভাবে তারা অনেক জানে। তাদের নিশ্চিহ্ন করা খুবই কঠিন।

ঝানু এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা ইরাকের উত্তরাঞ্চলে কুর্দিস্তানের পাহাড়ের ওপর থাকা সুলাইমানিয়া ঘাঁটিতে বসে বিবিসির সঙ্গে কথা বলেন। তিনি খিলাফত ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর গত ১২ মাসে তারা কীভাবে নিজেদের পুনর্গঠিত করেছে সেই দৃশ্য তুলে ধরেন।

ইরাকের কুর্দিস্তানে থাকা দুটি গোয়েন্দা সংস্থার একটি জানআয়ারি এজেন্সির প্রধান তালাবানে বলেন, ‘আমরা দেখছি তাদের কর্মকাণ্ড এখন বাড়ছে। এবং আমরা মনে করছি তাদের পুনর্গঠন পর্ব শেষ।’

এখনকার আইএসের ধরন আলাদা উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা বলেন, লক্ষ্যবস্তু (টার্গেট) হওয়া এড়াতে তারা কোনো অঞ্চল দীর্ঘ সময় দখল বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় না। আল-কায়েদার মতো তারা ইরাকের হারমিন পর্বতমালায় গা ঢাকা দিয়ে আছে। অনেক বড় এই পর্বতমালায় লুকিয়ে থাকার প্রচুর স্থান ও গুহা রয়েছে। এটি এখন তাদের আস্তানা। ওই পাহাড়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ইরাকি সেনাবাহিনীর জন্য খুব কঠিন। তিনি আরও সতর্ক করেন যে, ইরাকের রাজধানী বাগদাদে এখন যে অস্থিরতা চলছে সেই সুযোগ নিয়ে আইএসের উত্থান ঘটছে। তার ভাষায়, যদি রাজনৈতিক এই অস্থিরতা চলতেই থাকে তাহলে তা হবে আইএসের জন্য স্বর্গীয় পরিবেশ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন