default-image

চলতি মাসের শুরুর দিকে পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। সাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দুটি যুদ্ধজাহাজ মুখোমুখি হয়েছিল। দুই দেশের মধ্যে পরমাণু চুক্তি নিয়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে নানা আলোচনা চলছে। তবে এর মধ্যে দুই দেশের যুদ্ধজাহাজের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা এটাই ছিল প্রথম। মঙ্গলবার মার্কিন নৌবাহিনী এ তথ্য দিয়েছে।

কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে আজ মঙ্গলবার এ কথা জানানো হয়েছে।

মার্কিন নৌবাহিনী ২ এপ্রিলের একটি ভিডিও চিত্র প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, ইরানের এলিট ফোর্স ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) একটি যুদ্ধজাহাজ মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসসিজিসি মনোময়ের সামনে চলে আসে। এতে মার্কিন কোস্টগার্ডের ওই যুদ্ধজাহাজ হঠাৎ থামাতে হয়। এতে যুদ্ধজাহাজটির ইঞ্জিনে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাটি স্বীকার করা হয়নি। অবশ্য দুটি জাহাজের মুখোমুখি হওয়ার ওই ঘটনায় কেউ আহত হননি বা কোনো ক্ষতি হয়নি।
মার্কিন নৌবাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক পঞ্চম নৌবহরের মুখপাত্র রেবেকা রেবারিচ বলেন, আইআরজিসি এর আগে মার্কিন আরেক যুদ্ধজাহাজ ইউএসসিজিসি র‌্যানগেলের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

রেবারিচ বলেন, ‘মার্কিন নাবিকেরা একাধিকবার রেডিও সংকেত, জাহাজের বিশেষ হর্ন বাজান। কিন্তু আইআরজিসি অনিরাপদ কৌশল চালিয়ে যাচ্ছিল। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে মার্কিন সতর্কবার্তা ও প্রতিরক্ষা কৌশল নেওয়ার পর ইরানের যুদ্ধজাহাজ পথ থেকে সরে যায় এবং দূরত্ব তৈরি করে।’

রেবারিচ আরও বলেন, ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিলের পর এবারই প্রথম ইরান কোনো অনিরাপদ ও অপেশাদার কৌশল দেখাল। ইরান ২০১৮ সাল থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড কমিয়েছিল এবং ২০১৯ সালে পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল।

এর আগে ২০১৭ সালে এ ধরনের ১৪টি ঘটনা ঘটিয়েছিল ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড। ২০১৬ সালে ছিল ৩৫টি ও ২০১৫ সালে ছিল ২৩টি ঘটনা। ২০১৬ সালে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দেশটির জলসীমায় প্রবেশ করায় মার্কিন ১০ নাবিককে আটক করেছিল।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড সরাসরি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির কাছে জবাবদিহি করে।
ইরান যখন ভিয়েনাতে বিশ্বের ক্ষমতাশালী দেশগুলোর সঙ্গে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে ফেরা নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে, তখনই এ ধরনের উত্তেজনার ঘটনা ঘটল।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন