বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জোটের চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী দল ইয়ামিনা পার্টির প্রধান নাফতালি বেনেট প্রথম দুই বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। বাকি দুই বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী হবেন লাপিড। নতুন এই সরকারের শপথ নেওয়ার আগে সরকার গঠনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যাচাইয়ে দেশটির পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হবে। জোট যদি ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে ব্যর্থ হয়, তাহলে নতুন করে নির্বাচন হবে।

ক্ষমতায় টিকে থাকতে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা ও আগ্রাসী আগ্রাসন চালানোর পন্থা বেছে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ডানপন্থী নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে।

ইসরায়েলের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী বেনেট একসময়ের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা। ডানপন্থী, উগ্র ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইসরায়েলের রাজনীতিতে তাঁর আবির্ভাব ঘটে। ৪৯ বছর বয়সী বেনেট তাঁর রাজনীতির পুরো সময়ে ডানপন্থী ভোটারদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করেছেন।

বেনেট একসময় নেতানিয়াহুর দল ও সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এখন ইয়েমিনা পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই দল অধিকৃত পশ্চিম তীরের একাংশকে ইসরায়েলের অংশ হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে আসছে।

বেনেট ইসরায়েলের স্পেশাল ফোর্সের সাবেক কমান্ডো। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের মূল সংগঠনের প্রধান ছিলেন তিনি। ফিলিস্তিনি-বিরোধী উগ্র ও বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য বেনেট আলোচিত-সমালোচিত। গতকাল বৃহস্পতিবারও তিনি সংঘাতের জন্য ফিলিস্তিনিদেরই বেশি দোষ দেন।

বেনেটের সবশেষ এই বক্তব্য প্রসঙ্গে ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের সংগঠন পিএলওর প্রতিনিধি বাসেম আল-সালহি বলেন, নেতানিয়াহুর চেয়ে বেনেট মোটেই কম উগ্র নন। তিনি সম্ভাব্য সরকারে কতটা কট্টর হবেন, সেটিই এখন দেখার।

গাজার সরকারি কর্মকর্তা আহমেদ রেজিক বলেন, এক ইসরায়েলি নেতা থেকে অপর ইসরায়েলি নেতার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তাঁরা তাঁদের দেশের ক্ষেত্রে ভালো বা খারাপ হতে পারে। কিন্তু বিষয়টি যখন ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে আসে, তখন তাঁরা সবাই খারাপ। তাঁরা সবাই ফিলিস্তিনিদের অধিকার দিতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁরা ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ড দিতে অস্বীকার করেন।

গাজা নিয়ন্ত্রণকারী সংগঠন হামাস বলেছে, ইসরায়েলে কে ক্ষমতায় এল, আর কে গেল, তাতে কোনো পার্থক্য আসবে না।

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, ডানপন্থী, বামপন্থী, মধ্যপন্থী—যে নামেই ডাকা হোক না কেন, ইতিহাসে ইসরায়েলের অনেকগুলো সরকারই দেখেছেন ফিলিস্তিনিরা। কিন্তু ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের কথা এলেই তারা সবাই বৈরী হয়ে যায়। তাদের সব সরকারেরই বৈরী সম্প্রসারণবাদের নীতি দেখা গেছে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন