নতুন ফাঁস হওয়া নথিতে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংসহ অন্য নেতাদের বিভিন্ন বক্তব্য আছে। সেগুলো বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উইঘুর মুসলিমদের জন্য বন্দিশিবির স্থাপন ও তাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক শ্রম আদায়ের ঘটনায় চীনের জ্যেষ্ঠ সরকারি নেতারা জড়িত। উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, প্রধানমন্ত্রী লি কেছিয়াংসহ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছিলেন। আর সেসব বক্তব্যের ভিত্তিতে উইঘুর ও অন্য মুসলিমদের লক্ষ্য করে কঠোর নীতিমালা তৈরি হয়েছে। এসব নীতিমালার মধ্যে রয়েছে জোরপূর্বক বন্দী রাখা, গণহারে বন্ধ্যত্বকরণ, সংখ্যাগরিষ্ঠদের সংস্কৃতি অনুসরণে বাধ্য করা, পুনঃশিক্ষণ এবং আটক উইঘুরদের বিভিন্ন কারখানায় কাজ করতে বাধ্য করা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন ফাঁস হওয়া নথির কিছু কিছু তথ্য আগেও প্রকাশ করা হয়েছিল। তবে এবারের নথিতে এমন কিছু তথ্য আছে, যা আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

এ নথিগুলো যুক্তরাজ্যে উইঘুর ট্রাইব্যুনাল নামে গঠিত স্বাধীন ট্রাইব্যুনালের কাছে গত সেপ্টেম্বরে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে এর আগে তা পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। নথিগুলোর সত্যতা যাচাই করতে তিন বিশেষজ্ঞকে দায়িত্ব দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। তাঁরা হলেন ড. আড্রিয়ান জেঞ্জ, ডেভিড টোবিন ও জেমস মিলওয়ার্ড। নতুন ফাঁস হওয়া নথিগুলোর ব্যাপারে জেঞ্জ বলেন, সেখানকার বক্তব্যগুলো বিশ্লেষণ করেছেন তিনি। এতে দেখা গেছে, চীন সরকারের শীর্ষ নেতারা যে বক্তব্য দিয়েছেন এবং পরবর্তী সময়ে উইঘুরদের বিরুদ্ধে যে নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তার মধ্যে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ তথ্যগুলো আগের চেয় অনেক বেশি বিস্তারিত ও তাৎপর্যপূর্ণ।
এর আগে ২০১৯ সালে নিউইয়র্ক টাইমস উইঘুর মুসলিমদের ওপর চীনা সরকারের আচরণ নিয়ে ফাঁস হওয়া কিছু নথি হাতে পাওয়ার কথা বলেছিল। তবে তখন সে নথিগুলোর সব কটি জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়নি।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন