বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মিয়ানমারে গত ১ ফেব্রুয়ারি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। গ্রেপ্তার করা হয় অং সান সু চিসহ তাঁর দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের। এর পর থেকে দেশটিতে তুমুল বিক্ষোভ চলছে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান দ্য অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) সম্প্রতি জানিয়েছে, সেনাশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশটিতে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৮ হাজারের বেশি মানুষ।

সেনা হেফাজতে নেওয়ার চার মাস পর গত জুন মাসে বিচার শুরু হয় সু চির। তাঁর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে, যাতে কয়েক দশক পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
সূত্র বলেছে, অভ্যুত্থানের সমালোচনা করে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেওয়া বিবৃতি ও উসকানির অভিযোগের জবাবে গত মঙ্গলবার আদালতে সু চি নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।

সূত্র বলেছে, আদালত প্রত্যয়ন না করা পর্যন্ত সু চির সাক্ষ্যের বিষয়বস্তু প্রকাশ করা যাবে না।

নেপিডোর যে বিশেষ সেনা আদালতে সু চির বিচার চলছে, সেখানে গণমাধ্যমের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া সু চির আইনজীবীদের গণমাধ্যমে কথা বলাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এর আগে তাঁর আইনজীবীরা বলেছিলেন, সু চি আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সাক্ষী ডাকবেন না। তিনি নিজেই বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।

এদিকে মঙ্গলবার শুরু হওয়া আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের নেতাদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল মিয়ানমার। গত মঙ্গলবার বৈঠক শুরু হয়। এ বৈঠকে মিয়ানমারের কোনো প্রতিনিধি ছিল না। বৈঠক শুরুর আগেই আসিয়ানের নেতারা মিয়ানমারের শীর্ষ জেনারেল মিন অং হ্লাইংকে বৈঠক থেকে বাদ দেন। ছয় মাস আগে শান্তি স্থাপনে মিয়ানমার যে রোডম্যাপে সম্মতি দিয়েছিল, তা উপেক্ষা করায় হ্লাইংকে আসিয়ানের বৈঠক থেকে বাদ দেওয়া হয়।

সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে মিয়ানমার। আসিয়ানের পক্ষ থেকে এবারের বৈঠকে হ্লাইংকে বাদ দেওয়া হলেও দেশটির একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে বৈঠকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়। তবে জান্তার পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়।

গত আগস্ট মাসে মিন অং হ্লাইং নিজেকে দেশটির নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে ঘোষণা দেন। গত ১ আগস্ট জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি ২০২৩ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দেন।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন