default-image

ইন্দোনেশিয়ায় বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি সম্ভবত সাগরে আছড়ে পড়ার পর ভেঙে যায়। সাগর থেকে যেসব ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে, সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে এমনটাই মনে করছে তদন্তকারীরা।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিটির একজন তদন্তকারী নুরকায়হো উতোমো বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, উড়োজাহাজটি সাগরে আছড়ে পড়ে ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কেননা, যদি পড়ার সময় বিস্ফোরণ হতো, তাহলে ধ্বংসাবশেষ আরও বিশাল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ত।

তদন্তকারীরা ইতিমধ্যে উদ্ধার করা চাকা ও উড়োজাহাজের কাঠামোর বিভিন্ন অংশ বিশ্লেষণ করে দেখেছেন। উদ্ধার জিনিসপত্রের মধ্যে একটি ইঞ্জিনের টারবাইন রয়েছে।

নুরকায়হো উতোমো বলেন, আজকের মধ্যেই ব্ল্যাক বক্স খুঁজে পাওয়ার আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

গত শনিবার শ্রীবিজয়া এয়ারের বোয়িং ৭৩৭-৫০০ মডেলের উড়োহাজাজটি জাকার্তা থেকে ওয়েস্ট কালিমান্তান প্রদেশের রাজধানী পনতিয়ানাকে যাচ্ছিল। বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিমানবন্দর থেকে ওড়ার চার মিনিট পর এটি রাডার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষ বলছে, উড়োজাহাজের আরোহীদের মধ্যে ৬২ যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১০ শিশু ছিল। তারা সবাই ইন্দোনেশীয়।

বিজ্ঞাপন
default-image

২৬০০ লোক উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে

এদিকে উড়োজাহাজের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের ফুটেজ প্রকাশ করেছে দেশটির নৌবাহিনী। উদ্ধারকারীরা এরই মধ্যে উড়োজাহাজের ভাঙাচোরা বিভিন্ন অংশ ও আরোহীদের শরীরের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে। উড়োজাহাজের ব্ল্যাক বক্সের সন্ধান পাওয়া গেলেও তা এখনো উদ্ধার করা যায়নি। আজ সোমবার সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, তল্লাশি ও উদ্ধারকারী সংস্থার ক্রাশ অপারেশনসের প্রধান রসমান এম এস বলেন, ‘দিনরাত ২৪ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চলবে। এখানে কোনো বিরতি দেওয়া হবে না। যত দ্রুত আমরা উদ্ধার করতে পারি, তত ভালো।’

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, প্রায় ২ হাজার ৬০০ লোক এই উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। ৫০টিরও বেশি জাহাজ ও ১৩টি এয়ারক্রাফট এতে যুক্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত সাগরের ৭৫ ফুট গভীর থেকে অনেক আরোহীর শরীরের বিভিন্ন অংশ, উড়োজাহাজের বিভিন্ন টুকরা, যাত্রীদের জামাকাপড় উদ্ধার হয়েছে। তবে এখনো কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন উদ্ধারকারীরা।

default-image

কী হয়েছিল সেদিন

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার টোয়েন্টিফোর ডটকম জানিয়েছে, ভূমি থেকে তিন হাজার মিটারের বেশি ওপরে ওঠার পর এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে উড়োজাহাজটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।


যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের তৈরি যে উড়োজাহাজটি নিয়ে সম্প্রতি সংকট দেখা দিয়েছে, সেটি বোয়িং-৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের। ২০১৮ সালে এই সিরিজের একটি বিমান জাকার্তায় বিধ্বস্ত হয় এবং ১৮৯ জন মারা যান। সেটি ছিল লায়ন এয়ারের। কিন্তু গত শনিবার যেটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটি বোয়িং ৭৩৭-৫০০ সিরিজের। এটির বয়স বোয়িং-৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের চেয়ে বেশি। তবে ৭৩৭-৫০০ সিরিজের এই উড়োজাহাজের উড়ানসংক্রান্ত কোনো জটিলতা ছিল না।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন