default-image

লিবিয়ায় ২১ জন খ্রিষ্টানকে গলা কেটে হত্যা করেছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। গত রোববার রাতে শিরশ্ছেদের একটি ভিডিও প্রকাশ করে আইএস। তারা জানায়, নিহতরা সবাই মিসরের নাগরিক। ওই ভিডিও প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লিবিয়ায় আইএসের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় মিসর। খবর এএফপি ও রয়টার্সের।
আইএসের পাঠানো শিরশ্ছেদের ভিডিও অনলাইনে পাঠিয়ে দেয় লিবিয়ার জঙ্গিরা। এই জঙ্গিরা ইরাক ও সিরিয়ায় সক্রিয়
আইএসের সমর্থক। তবে এ দুই দেশের বাইরে আইএসের জঙ্গিদের হাতে শিরশ্ছেদের ঘটনা এই প্রথম।
ভিডিওতে দেখা যায়, কমলা রঙের শার্ট ও ট্রাউজার পরিহিত একদল লোককে লাইন দিয়ে একটি সৈকতে নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের দুই হাত পিঠমোড়া করে বাঁধা। প্রত্যেককে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন কালো পোশাক ও কালো কাপড়ে মুখ ঢাকা একজন করে লোক। কমলা রঙের পোশাক পরা লোকগুলোকে জোর করে সৈকতের বালুতে হাঁটু গেড়ে বসানো হয়। এরপর কালো পোশাক পরা লোকগুলো তাঁদের পেছনে দাঁড়ান। তাঁদের হাতে একটি করে বড় ছুরি। একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে একসঙ্গে কমলা রঙের পোশাক পরা লোকগুলোর গলা কেটে ফেলা হয়।
আইএস জানিয়েছে, শিরশ্ছেদ করা ব্যক্তিরা সবাই মিসরীয় শ্রমিক। সবাই জাতিতে কপটিক খ্রিষ্টান। আইএস এসব শ্রমিককে গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে পূর্ব লিবিয়ার উপকূলীয় শহর সিরতি থেকে অপহরণ করে। ওই এলাকা এখন আইএসের নিয়ন্ত্রণে।
মিসরের ইসলাম ধর্মতত্ত্বের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয় এই হত্যাযজ্ঞকে ‘বর্বরোচিত’ বলে আখ্যায়িত
করেছে। সে দেশে ঘোষণা করা হয়েছে সাত দিনের জাতীয় শোক।
মিসরের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন গতকাল জানায়, সোমবার ভোরে লিবিয়ায় আইএসের ক্যাম্প, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও অস্ত্রভান্ডার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে মিসর।
সেনাবাহিনী জানায়, ‘রক্তপাতের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ এবং হত্যাকারীদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার’ জন্যই এই হামলা। তারা বলেছে, ‘কাছে-দূরের সবাই জানুক মিসরীয়দের নিজস্ব প্রতিরক্ষা আছে। আর এটি তাদের রক্ষা করতে পারে।’
তবে লিবিয়ার ঠিক কোন অঞ্চলে হামলা চালানো হয়, তা জানায়নি মিসরের সেনাবাহিনী। তবে হামলায় অংশ নেওয়া সব বিমান নিরাপদে ফিরে এসেছে বলে নিশ্চিত করা হয়।
এই হামলা চালানোর আগে মিসরীয় প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি বলেন, আইএসের হামলার জবাব দেওয়ার অধিকার মিসরের আছে। তিনি বলেন, ‘সঠিক সময় ও সঠিক উপায়ে এই অমানবিক হত্যাকারীদের অন্যায়ের প্রতিশোধ নেওয়ার ক্ষমতা মিসরের আছে। আজ শুধু মিসর নয়, সমগ্র বিশ্বই চরমপন্থী ভাবধারায় পুষ্ট এসব চরমপন্থী জঙ্গির বিরুদ্ধে প্রচণ্ড লড়াইয়ে লিপ্ত আছে।’
আইএসের সর্বশেষ এই নৃশংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনাকে ‘ঘৃণ্য’ ও ‘কাপুরুষোচিত’ ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ এই ‘বর্বর’ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে আইএসের বিরুদ্ধে তাঁর দেশের অবস্থান দৃঢ় করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর ২০১১ সাল থেকে দেশটি অশান্ত হয়ে আছে। এর পর থেকে একাধিক গেরিলা বাহিনী তৈরি হয়। এরা নিজেরা একেকটি এলাকা দখলের জন্য লড়াই চালাচ্ছে। এখন দুটো পরস্পরবিরোধী সরকার একই সময়ে লিবিয়ার শাসনক্ষমতায় আছে। এর একটি রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক, আরেকটি তবরুকে সক্রিয়। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেনগাজির নিয়ন্ত্রণ আছে আল-কায়েদার সমর্থক জঙ্গিগোষ্ঠীর হাতে।

বিজ্ঞাপন
এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন