বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এক দিনের মিসর সফরে আল–সিসির সঙ্গে বৈঠককে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘খুবই ভালো’ বলে উল্লেখ করেছেন নাফতালি বেনেত। আর মিসর জানিয়েছে, ইসরায়েল–ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর উপায় খোঁজাসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয়ে দুই নেতা আলোচনা করেছেন।

ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী দল ইয়ামিনা পার্টির প্রধান বেনেত গত জুনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম কোনো আরব দেশ হিসেবে মিসর সফর করলেন বেনেত। গত মাসে পূর্ব জেরুজালেম সফরে গিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনেতের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁকে মিসর সফরের আমন্ত্রণ জানান মিসরের গোয়েন্দা প্রধান আব্বাস কামেল।

এর আগে ২০১১ সালে ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মিসর সফরে যান। ওই সময় মিসরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন হোসনি মোবারক। ওই বৈঠকের এক মাস পরেই গণ–আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হন মোবারক। তবে গুঞ্জন রয়েছে, নেতানিয়াহু ২০১৮ সালে আরও একবার মিসর সফরে গিয়েছিলেন, তবে সেটা গোপনে। ওই সফরে মিসরের প্রেসিডেন্ট সিসির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসরের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকের পর নিজ দেশে ফেরার আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই দেশের সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে একটি গভীর সংযোগের ভিত্তি স্থাপন করেছি আমরা।’

প্রথম আরব দেশ হিসেবে মিসর ১৯৭৯ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করে। কিন্তু ওই চুক্তির পরও দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক এখনো স্বাভাবিক হয়নি। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে ফিলিস্তিনের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সংঘাত যখন ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের জন্য প্রধান ভূমিকা পালন করে মিসর। সবশেষ গত মে মাসে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মধ্যস্থতা করে কায়রো। ওই সংঘাতে ২৬০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি ও ১৩ জন ইসরায়েলি প্রাণ হারান।

আল–জাজিরার সাংবাদিক হ্যারি ফসেট বলেছেন, মিসর ও ইসরায়েল নেতাদের বৈঠক বার্তা দিচ্ছে যে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক এখনো টিকে আছে এবং সেটাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মিসরের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের নীতি পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ আমেরিকানদের কাছে তুলে ধরতেই ওই দুই নেতার এই বৈঠক। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে মিসর দ্বিতীয়। আর মিত্ররাষ্ট্র ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি সামরিক সহায়তা পায়। তাই মার্কিন নীতি পরিবর্তন হলে তার প্রভাব মিসরের ওপর ব্যাপকভাবে পড়বে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন