বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

একাধিক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, সারা দেশে হাসপাতাল এবং ফার্মেসিগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধ ফুরিয়ে যাচ্ছে।

কলম্বোর লেডি রিজওয়ে হসপিটালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বিরাজ জয়সিংহে বলেন, তাঁদের হাসপাতালে ছয় মাসের ওষুধ সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু তাঁদের ওষুধসংকট শুরু হয়ে গেছে।

দেশটিতে ওষুধ ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর দাবিতে বিরাজ জয়সিংহের মতো শত শত চিকিৎসক রাজপথে নেমেছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি জরুরি সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। কিন্তু শ্রীলঙ্কার ওষুধসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এই সাহায্য যথেষ্ট নয়।

বিরাজ আরও বলেন, যেসব চিকিৎসা সরঞ্জাম একবারের ব্যবহার উপযোগী, তা এখন একাধিকবার ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি বলেন, এটা দুঃখজনক হলেও বাস্তবতা।

এদিকে শ্রীলঙ্কার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টানা ষষ্ঠ মাসে মুদ্রাস্ফীতি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সরকারের তরফ থেকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) জরুরি সাহায্যের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে আইএমএফ বলেছে, শ্রীলঙ্কার আগের ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি ঋণের শর্তই পূরণে অক্ষম দেশটি। তাই নতুন করে ঋণ পেতে হলে আগের ঋণের বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে। শ্রীলঙ্কা সরকার তার বৈদেশিক ঋণখেলাপি হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং বলেছে, তাদের বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভে গত মঙ্গলবার প্রথম রক্ত ঝরে। এদিন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে একজন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। এ ছাড়া গত ছয় সপ্তাহে জ্বালানির জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

শ্রীলঙ্কার চরম আর্থিক দুরবস্থার জন্য দেশটির সরকারকেই দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ। এর জেরে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের পদত্যাগ দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। ৯ এপ্রিল থেকে রাজধানী কলম্বোয় প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বাইরে চলছে এ আন্দোলন।

পুলিশের গুলিতে নিহত বিক্ষোভকারীর শেষকৃত্যের আগে গত বৃহস্পতিবার সেনা তলব করে দেশটির সরকার। নিরাপত্তা রক্ষার অজুহাতে দেশটির রামবুক্কানা শহরে তিন দিন সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন