বিজ্ঞাপন

কেজরিওয়ালের ওই মন্তব্য সিঙ্গাপুরকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানায়। তারা ওই নতুন ধরনের উৎস যে ভারত, সে কথাও মনে করিয়ে দেয়। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, করোনার ‘সিঙ্গাপুর ধরন’ বলে কিছু নেই। বরং বহু দেশে ইদানীং যার দেখা মিলেছে তা ‘বি.১. ৬১৭.২’ নামে পরিচিত, যার সন্ধান প্রথম পাওয়া গেছে ভারতেই।

সিঙ্গাপুরের এই প্রতিবাদ ও আপত্তির কথা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মেনে নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠানোর খবর স্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, হাইকমিশনার ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়ে বলেছেন, কোভিডের নতুন ধরন বা বেসামরিক বিমান পরিবহন নিয়ে কিছু বলার এখতিয়ার মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের নেই।

একই কথা সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণনকে জানিয়ে দেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। কোভিড নিয়ন্ত্রণে দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে দুটি টুইটে তিনি স্বীকার করেন, দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যে সম্পর্ক খারাপ হয়। এরই পাশাপাশি তিনি বলেন, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর ভারতের হয়ে কথা বলার এখতিয়ার নেই।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই যুক্তি অবশ্য ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।

কোভিড নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধের নানা দাবি এর আগে পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, কেরালাসহ আরও কিছু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা জানিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীদের সেই এখতিয়ার নিয়েই এবার প্রশ্ন উঠে গেল।

কোভিডের নতুন ধরন, প্রকারান্তরে সিঙ্গাপুর যাকে ‘ভারতীয়’ বলে দাবি করেছে, তা দেশের রাজনীতিকেও জমাট করে তুলেছে। বিজেপি এটা কংগ্রেসের চক্রান্ত বলে চিহ্নিত করেছে। গত মঙ্গলবার তারা দাবি করে, দেশ ও দেশের প্রধানমন্ত্রীকে হেয় করতে কংগ্রেস নতুন এই ধরনকে ‘মোদি স্ট্রেইন’ বা ‘ইন্ডিয়ান স্ট্রেইন’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। সে জন্য একটা ‘টুলকিট’ মারফত দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের নির্দেশ দিচ্ছে।

বিজেপি যার ভিত্তিতে এই দাবি জানিয়েছে, তা তাদেরই কীর্তি বলে পাল্টা অভিযোগ করে কংগ্রেস বলেছে, কংগ্রেসের লেটারহেড চুরি করে বিজেপি এটা করেছে। কোভিডের মোকাবিলায় ব্যতিব্যস্ত ও বিপর্যস্ত বিজেপি এখন এভাবে বাঁচার চেষ্টা করছে। বিজেপির ‘জালিয়াতির’ বিরুদ্ধে কংগ্রেস সেই দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগও দাখিল করেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপির সভাপতি জে পি নাড্ডা, মন্ত্রী স্মৃতি ইরানী, দলীয় নেতা বি এল সন্তোষ ও মুখপাত্র সম্বিত পাত্র।

ভারতে কোভিডের প্রথম ঢেউয়ে সর্বোচ্চ দৈনিক সংক্রমণ ছিল ৯৬ হাজার, মৃত্যু ১ হাজারের কিছু বেশি। কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময় দৈনিক সংক্রমণ ৪ লাখ ছাড়িয়ে যায়। গত কদিনে তা আড়াই লাখের আশপাশে নেমে এসেছে। যদিও দৈনিক মৃত্যুর হার বেড়ে চলেছে নিত্য। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৪ হাজার ৫২৯ জন, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এই পরিসংখ্যান সরকার ও চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। এই অবস্থায় নতুন চিন্তা করোনার নতুন ধরন ও সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউকে কেন্দ্র করে।

এশিয়া থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন