default-image

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কাতারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রতিদিনই বিস্তর বিধি-নিষেধ জারি করে চলেছে। যেমন এখন থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত খাবারের দোকান, ফার্মেসি ও হোম ডেলিভারি ছাড়া সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে। হোটেলের সামনে, রাস্তার পাশে, পার্কে কিংবা কোনো খোলা জায়গায় এখন দুজন দাঁড়িয়ে কথা বলা যাবে না।

কাতারে করোনা আক্রান্তদের বিষয় গোপন করলে কিংবা রিপোর্ট না করলে ২ লাখ রিয়াল জরিমানা এবং তিন বছরের কারাদণ্ডের মতো কঠিন সাজা দেওয়া হবে। সংস্কৃতি ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কিউএফএম ৯৫.৩ ব্যান্ডে এখন করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সচেতনতামূলক প্রচারণা বাংলায় প্রচার করা হচ্ছে। ফলে কাতারের প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরকারের হালনাগাদ কর্মসূচি ও বিধিনিষেধ সম্পর্কিত তথ্য নিয়মিত জানতে পারছেন।

কাতারের শিল্প এলাকা বা সানাইয়া লকডাউন করা হয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ হতে চলল। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে দুই সপ্তাহের জন্য সানাইয়ার ১ থেকে ৩২ নম্বর সড়ক পর্যন্ত এলাকা লকডাউন করা হয়েছে। কাতারের বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের হাজারো শ্রমিক এই শিল্প এলাকার ক্যাম্পে বাস করছেন। কাতারে এ পর্যন্ত যতজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের বেশির ভাগই থাকেন ওই শিল্প এলাকায়। তবে ওই এলাকার অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য কাতার সরকার বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চিকিৎসক ও মেডিকেল টিম লকডাউন এলাকার অভিবাসীদের নিয়মিত পরীক্ষা করছেন। প্রয়োজনে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

যেহেতু তাৎক্ষণিকভাবে কেউ কেনাকাটা করতে ক্যাম্পের বাইরে যেতে পারছেন না, তাই শিল্প এলাকায় অনেকে খাদ্য সংকটে পড়েছেন। খাদ্য সংকট মোকাবিলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুটো হটলাইন নম্বর চালু করেছে। যারা খাদ্য সংকটে আছেন, তাদের সরাসরি নিজেদের অবস্থান বা ঠিকানা জানিয়ে হটলাইনে টেলিফোন করলে ডাল, চাল, নুন, পানিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাবারের প্যাকেট জায়গামতো পুলিশ পৌঁছে দিচ্ছে বলে জানালেন বাংলাদেশ কমিউনিটি কাতারের সাধারণ সম্পাদক আমিন রসুল সাইফি।

আমিন রাসুল খাদ্যসংকট মেটাতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়কারীর কাজ করছেন। তবে খাদ্যের চাহিদা বহু গুনে বেড়ে যাওয়ায় এখন সানাইয়ার লকডাউন এলাকার দোকানগুলোতে খাবারের মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নির্ধারিত মূল্যে খাদ্যসামগ্রী পাওয়া যাবে। তবু জরুরি খাবার সরবরাহের প্রয়োজন হলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করতে বলা হয়েছে।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পরই সময় অপচয় না করে করোনা সংক্রমণরোধে কাতার তড়িৎ পদক্ষেপ নিয়েছে। খুব ছোট্ট একটি দেশ হলেও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কাতারের নীতি নির্ধারকেরা বড় বড় উন্নত দেশ যেমন আমেরিকা, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার চেয়েও পরিপক্বতা এবং দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। যার ফলাফল এখন পাওয়া যাচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে মাত্র ১২ জন। এ ছাড়া সৌদি আরব, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে করোনা রোগীর মৃত্যু হলেও কাতারে এখনো কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, যেকোনো ভাইরাস সংক্রমণ রোধে কার্যকর শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ বিষয়ে কাতার অনেক এগিয়ে আছে। কাতার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার মানুষের কোভিড-১৯ টেস্ট করা হয়েছে। জনসংখ্যার অনুপাতে যার পরিমাণ উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে বহুগুণ বেশি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0