default-image

করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর জাপানে আজ বুধবার প্রথমবারের মতো শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি একই দিনে রাজধানী টোকিওতে সর্বোচ্চ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

টোকিওতে আজ ৪৯৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর আগে সংক্রমণের দৈনিক সর্বোচ্চ সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছিল ১ আগস্ট। ওই দিন ৪৭২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউ জাপানে শুরু হওয়া নিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল উদ্বিগ্ন। আজকের হিসাব নিয়ে এ পর্যন্ত টোকিওতে সংক্রমিত লোকের সংখ্যা ৩৫ হাজারের বেশি। আর সারা দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজারের সামান্য ওপরে। টোকিওতে যাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ৭২ জনের উপসর্গ হচ্ছে মারাত্মক। এই হিসাবও এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি।

টোকিওর বাইরে অন্যান্য এলাকার মধ্যে উত্তরের জেলা হোক্কাইডোতে হঠাৎ সংক্রমণ আবারও বাড়ছে। সেখানকার স্থানীয় সরকার, বিশেষ করে জেলার প্রধান শহর সাপ্পোরোতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ পদক্ষেপ জোরদার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এসব প্রতিরোধ পদক্ষেপের মধ্যে আছে যতটা সম্ভব বাড়িতে থাকার অনুরোধ শহরবাসীদের প্রতি এবং সাপ্পোরো ভ্রমণে না আসার অনুরোধ শহরের বাইরের লোকজনের প্রতি। সেই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত পাঁচ ধাপের সতর্কতার তৃতীয় ধাপে সাপ্পোরো এখন অবস্থান করলেও সতর্কতা আরও এক ধাপ ওপরে তুলে আনার চিন্তাভাবনা নগর প্রশাসন করছে।

বিজ্ঞাপন

করোনার বিস্তার বেড়ে চলার মুখে রাজধানী টোকিও এখন সতর্কতা আবারও বাড়িয়ে নেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন সূত্র জাপানের সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, পরিস্থিতির গভীরতা বিবেচনা করে সতর্কতা সর্বোচ্চ ধাপে উন্নীত করে নেওয়ার পরিকল্পনা মেট্রোপলিটন সরকার এখন করছে। এর অর্থ হচ্ছে রেস্তোরাঁ ও পানাহারের অন্যান্য স্থাপনাকে রাত নেমে আসার অল্প পরে বন্ধ করে দেওয়ার অনুরোধ জানানো এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যেন কর্মচারীদের আরও বেশি করে বাড়িতে থেকে ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে কাজ করার সুযোগ করে দেয়, সেই অনুরোধ করা। পাশাপাশি এ রকম নিয়ন্ত্রণ পদক্ষেপের কারণে হওয়া ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করে দেখছে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার নির্ধারিত বিশেষজ্ঞদের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত মেট্রোপলিটন সরকার চূড়ান্ত করে নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাধ্যতামূলক লকডাউন ও ব্যাপক সংখ্যায় ভাইরাস পরীক্ষা চালানোর পথে না গিয়েও বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশের চাইতে তুলনামূলক দক্ষতার সঙ্গে করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রতিহত করাতে পারায় জাপানের এই সাফল্য বিশ্বের নজরে এসেছে। এর আগে সংক্রমণের দুটি তরঙ্গ আঘাত হানলেও সংক্রমণ ও মৃত্যুর মোট সংখ্যার দিক থেকে জাপানের পরিস্থিতি কোনো অবস্থাতেই খারাপ নয়।

আক্রান্ত ও মৃত্যু—দুই হিসাবের কোনোটিই পশ্চিমের অনেক দেশের কাছাকাছিও নয়। তবে জাপান চাইছে মৃত্যু ও সংক্রমণ দুটোই শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনতে। কেননা, আগামী বছর পরিবর্তিত সময় সূচিতে ২০২০ টোকিও অলিম্পিকের আয়োজন নিয়ে সরকার চিন্তিত। ফলে তৃতীয় তরঙ্গ আঘাত হানলেও ক্ষয়ক্ষতি যেন খুব বেশি বিস্তৃত হতে না পারে, সেই লক্ষ্যে আবারও সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা নিয়ে সরকারকে ভাবতে হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থনীতির হিসাব–নিকাশও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। করোনাভাইরাসের আঘাতে বিপর্যস্ত অর্থনীতি সীমিত মাত্রায় হলেও ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। আর তাই ভাইরাসের আরেকটি আঘাত এই প্রক্রিয়াকে নতুন করে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে। তাই শিথিল পথে অগ্রসর হয়ে কোনোরকম ঝুঁকি গ্রহণ করতে সরকার নারাজ। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আবারও হয়তো নতুন কিছু বিধিনিষেধের মুখে পড়বে জাপান।

মন্তব্য পড়ুন 0