কোন রূপে ফিরবে তালেবান

অধিকার রক্ষা নিয়ে শঙ্কিত আফগান নারীরা
রয়টার্সের ফাইল ছবি

দীর্ঘদিনের লড়াই-সংগ্রাম শেষে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসার পর তালেবানের সামনে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। আগামী বুধবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র বাহিনী পুরোপুরি আফগানিস্তান ছেড়ে যাবে। বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর পুরো দেশের নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে তালেবানের হাতে। এর ফলে তালেবানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিটুকুও শেষ হয়ে যাবে আফগানিস্তান থেকে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় মেয়াদে তালেবানের খিলাফত কেমন হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। সবশেষ বিদেশি সেনা আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার পর আফগানিস্তান কোন রূপে ফিরবে, সেই দিকেই এখন সবার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। যদিও তালেবান বারবার স্পষ্ট করে বলছে, নব্বইয়ের দশকের মতো তারা দেশ শাসন করবে না। কিন্তু এটা স্পষ্ট নয় যে তারা কীভাবে এটা করবে কিংবা কী অর্জন করবে।

বিদ্যমান যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে সরকার পরিচালনায় মনোযোগ দেওয়া সব সময় কঠিন। এমনকি তালেবানের প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত ক্ষমতায় আসায় তারা নিজেরাও এখন পুরোপুরি প্রস্তুতও নয়। তালেবানের সহপ্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল গনি বারাদার স্বীকার করেছেন, যেই গতিতে কাবুলের পতন ঘটেছে, সেটা তালেবানকেও অবাক করেছে। বিষয়টি স্পষ্ট যে সংগঠনটি এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি, কে, কীভাবে দেশ শাসন করবে।

সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব আর্মড গ্রুপের সহপরিচালক অ্যাশলে জ্যাকসন বলেন, ‘তারা খুবই ধীর গতিতে আগাচ্ছে। আমার মনে হয়, আমেরিকান সেনারা আফগানিস্তান ছেড়ে গেলেই তারা সরকার গঠনের ঘোষণা দেবে। কিন্তু সরকার গঠনে দেরি করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।’

জ্যাকসন দীর্ঘদিন ধরেই আফগানিস্তান নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হামলা করার ঝুঁকি রয়েছে। আইএসের বিরুদ্ধে শক্তি দেখিয়ে বোঝাতে হবে যে তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম।

প্রায় অর্ধদশক ধরে তালেবান আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই করলেও তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। বিদেশি সেনা চলে যাওয়ার পর কাবুলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গত বৃহস্পতিবারের মতো আত্মঘাতী হামলার ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। আর সেটা তালেবানের জন্য অযোগ্যতা বলেই বিবেচিত এমনকি তাদের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও আঘাত হানবে।

জানা গেছে, তালেবানের সরকার কাঠামো প্রতিবেশী ইরানের মতো হতে পারে বলে সংগঠনটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, আফগানিস্তানে কোনো গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হবে না।’