default-image

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগির হত্যাকাণ্ডকে ‘ভুল’ বলেছিলেন উবারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারা খোসরোওশাহী। পরে আবার পল্টি খেয়ে এই ‘ভুল’ বলার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, রিয়াদ এ হত্যার দায় স্বীকার করলেও রোববার অ্যাক্সিয়োকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এটিকে সৌদি সরকারের ‘ভুল’ বলে মন্তব্য করেছিলেন দারা।

গতকাল সোমবার সকালে দারা এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘জামাল খাসোগির সঙ্গে যা হয়েছে, তা ভুলে যাওয়া বা ক্ষমা করার কোনো কারণ নেই। এ হত্যাকাণ্ডকে ভুল বলে আমিই ভুল করেছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘ওই মুহূর্তে আমি এমন কিছু বলেছিলাম, যা আমি নিজেই বিশ্বাস করি না। আমাদের বিনিয়োগকারীরা আমার মতামত সম্পর্কে অনেক আগে থেকেই জানেন। অ্যাক্সিয়োকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে বিষয়টি পরিষ্কার করতে না পারায় আমি দুঃখিত।’

‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর কলাম লেখক সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি গত বছরের ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে বিয়েসংক্রান্ত কিছু কাগজ আনতে গিয়েছিলেন। এরপর সেখানেই তিনি খুন হন। ওই ঘটনার পর যুবরাজ সালমান বিশ্বব্যাপী কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েন।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কড়া সমালোচক সৌদি সাংবাদিক খাসোগি হত্যাকাণ্ড সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ ঘটনার পর এক বছর পেরিয়ে গেছে। খাসোগির বাগ্‌দত্তা হেতিস চেঙ্গিস এখনো বহু প্রশ্নের উত্তর পাননি।

২০১৬ সালের পর থেকে সৌদি আরবে উবার বড় বিনিয়োগ করে চলেছে। এর পরিমাণ বর্তমান বাজারমূল্যে সাড়ে ৩০০ কোটি ডলার। গত বছরের অক্টোবরে দারা খোসরোওশাহী সৌদি আরবের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

রোববারের সাক্ষাৎকারে খাসোগি হত্যার ঘটনাকে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে উবারের চালকবিহীন গাড়ি চাপায় পথচারী হত্যার সঙ্গে তুলনা করেন দারা। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সৌদি সরকার বলেছিল যে তারা ভুল করেছে। আমি মনে করি, মানুষ মাত্রই ভুল করে। আর তার মানে এই নয় যে ভুল করলে তাদের কখনোই ক্ষমা করা যাবে না।’

খাসোগি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে দারা যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করতে সাক্ষাৎকারের পর পরই অ্যাক্সিয়োর নির্বাহী সম্পাদক দারাকে ডেকে আনেন।

উবারপ্রধানের এই মন্তব্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট-এর সম্পাদক ও খাসোগির সাবেক সহকর্মী ক্যারেন আতিয়া উবার সিইওর একটি হত্যাকাণ্ডকে প্রযুক্তিগত ত্রুটির সঙ্গে তুলনাকে ‘অসুস্থ ও দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

আতিয়া এক টুইট বার্তায় বলেন, প্রথম যখন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছিলেন, খাসোগির তখন গাড়ি ছিল না। চলাফেরার জন্য তিনি উবার ব্যবহার করতেন। তবে সংস্থাটি জীবনের চেয়ে অর্থকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এক সৌদি কর্মকর্তাকে তাদের কমিটিতে রাখার বিষয়েও আতিয়া প্রশ্ন তোলেন। তিনি টুইট করেছেন, ‘উবারের প্রধান বিনিয়োগকারীদের একজন যদি কাউকে মেরে ফেলে, তবে আসলেই কিছু যায় আসে না। হত্যাকারী সরকারের এক প্রতিনিধি এখনো তাদের কমিটিতে নিজের আসন টিকিয়ে রেখেছেন।’

খোসরোওশাহী উবারে সৌদি আরবের ভূমিকার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘সৌদি আর দশটি ব্যবসায়িক অংশীদারের মতো উবারে বিনিয়োগ করে। আপনারা যেমন বড় বিনিয়োগকারী হতে পারেন, ঠিক তেমনই তারাও উবারের বড় বিনিয়োগকারী।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন