default-image

সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যায় আরও ছয় সৌদি নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে তুরস্ক। অভিযোগ প্রমাণ হলে দুজনের যাবজ্জীবন ও চারজনের পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তবে তাঁরা কেউই তুরস্কে নেই।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ছয়জনের মধ্যে দুজন সৌদি কনস্যুলেটের সদস্য, যাঁরা খাসোগি হত্যাকারীদের সঙ্গে ছিলেন। অন্য চারজন এই হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট করেছেন। তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলু জানায়, গতকাল সোমবার ওই ছয় সৌদি নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে আরেকটি অভিযোগ গঠন করেছিল ইস্তাম্বুল। গত জুলাইয়ে সেখানকার একটি আদালত ওই অভিযোগে সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের দুই সহযোগীসহ ২০ সৌদি নাগরিকের অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ শুরুর চেষ্টা করেন।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় আইনজীবীদের দাবি, সৌদি উপগোয়েন্দা প্রধান আহমেদ আল-আসিরি ও রয়েল কোর্টের মিডিয়াবিষয়ক উপদেষ্টা সৌদ-আল কাহতানি হত্যার ওই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁরা সৌদি ‘হিট টিম’কে নির্দেশ দিয়েছেন। ২০১৮ সালের অক্টোবরে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন ওয়াশিংটন পোস্ট-এর কলাম লেখক ও সালমানের সমালোচক সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি (৫৯)।

জামাল খাসোগি নিয়ে প্রথম থেকেই সরব ছিল তুরস্ক। দেশটি বরাবরই এটিকে হত্যাকাণ্ড বলে আসছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে জামাল খাসোগি হত্যার ঘটনায় গত বছরের ডিসেম্বরে আটজনকে দোষী সাব্যস্ত করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছিল সৌদি আরব। তবে গত মে মাসে খাসোগির সন্তানেরা তাঁদের বাবার হত্যাকারীদের ক্ষমার ঘোষণা দেন। এর ফলে ৭ সেপ্টেম্বর খাসোগি হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া পাঁচজনের সাজা কমিয়ে দেন সৌদি আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে ২০ বছর করে কারাদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। অপর তিন ব্যক্তিকে ৭ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ বলছে, সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দেন বলে তাদের ধারণা। তবে সৌদি কর্মকর্তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

মন্তব্য পড়ুন 0